ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলে এবার ৪ দশমিক ৯ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) রিখটার স্কেলে মাঝারি মাত্রার এই কম্পনটি অনুভূত হয়। প্রলয়ঙ্করী জোড়া ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই এই নতুন কম্পন দেশটির মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। খবর আলজাজিরা।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইএমএসসি (ইএমএসসি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, নতুন এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তরাঞ্চলীয় শহর মারাকাই থেকে ৬১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানিয়েছে, নতুন এই কম্পন মারাকাই ও রাজধানী কারাকাসেও বেশ ভালোভাবেই অনুভূত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এতে নতুন কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে গত বুধবারের (২৪ জুন) ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৯২০ ছাড়িয়েছে। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বর্তমানে সরকারি হিসাবেই নিখোঁজের সংখ্যা ৫০ হাজার পার হয়েছে। এছাড়া অন্তত ৩ হাজার ৩৬০ জন আহত উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে লা গুয়াইরা রাজ্যের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো।
‘আমাদের ক্রেন দরকার, এখনও মানুষ বেঁচে আছে’
সরকারি উদ্ধারকাজে ধীরগতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই দলবদ্ধ হয়ে ত্রাণ সংগ্রহ করছেন এবং স্বজনদের খোঁজে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন। অনেকে নিজস্ব গাড়িকে অস্থায়ী অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করে আহতদের হাসপাতালে নিচ্ছেন। উদ্ধারকাজের সুবিধার্থে ভেনেজুয়েলা সরকার ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর থেকে ব্লক করে রাখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্সের’ (টুইটার) ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে, যাতে মানুষ দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে।
কারাকাসের ধসে পড়া ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ২৫ বছর বয়সী জেনিফার পালাসিওস বলেন, এলাকার সাধারণ মানুষই মূলত নিজেদের চেষ্টায় এ পর্যন্ত অনেককে জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছে। কিন্তু আমাদের এখন বড় বড় ক্রেন দরকার, যাতে কংক্রিটের ভারী স্ল্যাবগুলো সরানো যায়। আমার ৬ বছরের ছেলেসহ পরিবারের ৫ জন সদস্য এখনও ভেতরে চাপা পড়ে আছে। সেখানে এখনও মানুষ বেঁচে আছে।