নওগাঁর বদলগাছীতে এখন আম মৌসুমের ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে এ অঞ্চলের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিখ্যাত ‘নাক ফজলি’ আম। তবে উৎসবের এই মৌসুমে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবহণ অব্যবস্থাপনা। বুকিং করার পরও যথাসময়ে আম গন্তব্যে না পৌঁছানোয় ক্রেতার হাতে যাওয়ার আগেই পচে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান এই কৃষিপণ্য। এতে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও অনলাইনের উদ্যোক্তারা, ক্ষুণ্ন হচ্ছে বদলগাছীর আমের সুনাম, ক্ষুব্ধ হচ্ছেন গ্রাহকরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বদলগাছী ডাকবাংলো মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস’ শাখার মাধ্যমে পাঠানো আম নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে না। গত শনিবার (১৩ জুন) ও রোববার (১৪ জুন) বিকেলে ওই কুরিয়ার অফিসের সামনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে ক্ষতিপূরণের দাবিতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়াতে দেখা যায়।
বদলগাছী সদরের বাসিন্দা সাজ্জাদুল ইসলাম পলাশ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ৭ জুন ঢাকার উত্তরায় এক আত্মীয়ের কাছে দুই মণ নাক ফজলি আম পাঠিয়েছি। আট দিন পার হয়ে গেলেও আমগুলো পৌঁছায়নি। প্রতিদিন কুরিয়ারে খোঁজ নিয়েও কোনো সঠিক তথ্য পাচ্ছি না।
অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘বদলগাছী ম্যাংগো সেল বাজার’র উদ্যোক্তা এস এম মোস্তাকিম জানান, দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে আম বিক্রি করলেও এবার কুরিয়ারের ধীরগতির কারণে নিয়মিত ক্রেতা হারাচ্ছেন তিনি। সময়মতো আম না পেয়ে এবং অনেকে পচা আম হাতে পেয়ে ফোনে অভিযোগ করছেন।
একই দুর্ভোগের চিত্র ঢাকার ক্রেতাদের মাঝেও। বনশ্রী এলাকার চাকরিজীবী অমিত কুমার গত ৮ জুন অনলাইনে ৪০ কেজি আম অর্ডার করে পাঁচ দিন পর হাতে পান। ততক্ষণে অধিকাংশ আম কালো হয়ে পচে গেছে।
অন্যদিকে কারওয়ান বাজার এলাকার সরদার মেহেদী হাসান জানান, প্রায় ১০ দিন আগে তার শ্বশুর ৫২ ক্যারেট আম পাঠালেও বুকিংয়ের কোনো টোকেন দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে নির্ধারিত ঠিকানার পরিবর্তে অন্য শাখায় আম পাঠানোয় অর্ধেক আমই নষ্ট হয়ে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু আম নয়, সুন্দরবন কুরিয়ারের বদলগাছী শাখায় ২৪ ঘণ্টার কথা বলে পার্সেল বুকিং নেওয়া হলেও তা পৌঁছাতে ৪ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে যা চরম বিপর্যয় ডেকে আনছে।
অভিযোগের বিষয়ে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের বদলগাছী শাখার প্রোপ্রাইটর রায়হান হোসেন গাফিলতির কথা স্বীকার করে বলেন, কিছু সমস্যা হয়েছে। যাদের আম পৌঁছায়নি, তারা যোগাযোগ করেছেন। আমি তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছি।
বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের এই অব্যবস্থাপনা আমাদের নজরে এসেছে। অভিযোগ পেয়ে আমি নিজে ওই শাখাটি পরিদর্শন করে তাদের প্রাথমিকভাবে সতর্ক করেছি। ভবিষ্যতে জিআই পণ্য নাক ফজলি আম সংরক্ষণ ও পরিবহণে এমন গাফিলতি পাওয়া গেলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।