পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি বিজেপির

ভারতের পাঞ্জাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী হরজোৎ সিং বেইন্সের পদত্যাগ দাবি করেছে বিজেপি। তবে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, গত সাড়ে চার বছরে পাঞ্জাবে কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি।

রোববার (২৬ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি প্রশ্ন তুলে বলেন, পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রী কবে পদত্যাগ করবেন? নৈতিকতার ভিত্তিতে অরবিন্দ কেজরিওয়াল কবে তার পদত্যাগ চাইবেন?

তিনি অভিযোগ করেন, পাঞ্জাব স্কুল এডুকেশন বোর্ডের (পিএসইবি) দ্বাদশ শ্রেণির ইংরেজি পরীক্ষা, পাঞ্জাব স্টেট টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট (পিএসটিইটি) এবং কৃষি উন্নয়ন কর্মকর্তা (এডিও) নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। পাশাপাশি পাঞ্জাব সাবঅর্ডিনেট সার্ভিসেস সিলেকশন বোর্ডের (পিএসএসএসবি) নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তিনি।

পাঞ্জাব কংগ্রেসের সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিংও গত চার বছরে ছয়টি বড় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, চার বছর, ছয়টি বড় প্রশ্নপত্র ফাঁস, অসংখ্য শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ভেঙে গেছে। তবুও কোনো জবাবদিহি নেই।

তবে আম আদমি পার্টি (আপ) এসব অভিযোগকে “ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেছে। মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান বলেন, গত সাড়ে চার বছরে পাঞ্জাবে কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি।

তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, পাঞ্জাবে কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। দুটি স্থানে পরীক্ষায় নকলের চেষ্টা ধরা পড়েছিল। আমরা ১০ মিনিটের মধ্যেই ব্যবস্থা নিয়েছি এবং নকলচক্রের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছি।

আপ নেতা বালতেজ পান্নুও অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে বলেন, পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে সেটিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস বলা ঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বিজেপি ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হিসেবে তুলে ধরে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

এর আগে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর পাঞ্জাবের এই ইস্যুতে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন করে শুরু হয়। দেশটির রাজধানীতে এক মাসব্যাপী বিক্ষোভের পর নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কের জেরে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *