ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তিতে পৌঁছাতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সিরিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা জানিয়েছেন, কয়েকটি দেশের অংশগ্রহণে এ বিষয়ে কাজ চলছে।
রোববার (২৬ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
আল জাজিরার ‘আল মুকাবালা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আল-শারা বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য এই চুক্তি একটি বৃহত্তর শান্তি প্রক্রিয়ার সূচনা করতে পারে। তবে এর মাধ্যমে দখলকৃত গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হবে না।
তিনি বলেন, সিরিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সংঘাতে যেতে চায় না। একটি নিরাপত্তা সমঝোতা আঞ্চলিক সংকট সমাধানের পথ তৈরি করতে পারে।
বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আল-শারা ক্ষমতায় আসেন। এরপর থেকেই দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলের একাধিক সামরিক অভিযান ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
লেবানন সংকট নিয়েও কথা বলেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, লেবাননে সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো পরিকল্পনা নেই দামেস্কের। বরং দেশটির বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার পথ খুঁজছে সিরিয়া।
আল-শারা বলেন, লেবাননে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধ ও শান্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শুধু রাষ্ট্রের হাতে থাকা উচিত।
তিনি সতর্ক করে বলেন, লেবাননে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে সিরিয়ায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
সিরিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি দেশটিকে সন্ত্রাসে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সরানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন আল-শারা।
কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর সঙ্গে হওয়া চুক্তির বাস্তবায়নে বিলম্ব হলেও সরকার এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া ২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সিরিয়া যুদ্ধে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান প্রেসিডেন্ট। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে কমিটি কাজ করবে। জাতিসংঘের হিসাবে, ওই সময়ে সিরিয়ায় প্রায় ১ লাখ মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন।
এসএন/পিডিকে