পরিবহণ মালিক গ্রুপের বিরোধ রাজবাড়ী-ফরিদপুর রুটে বাস চলাচল বন্ধ

ফরিদপুরের গোল্ডেন লাইন পরিবহণ ও রাজবাড়ী সড়ক পরিবহণ মালিক গ্রুপের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে রাজবাড়ী-ফরিদপুর রুটে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় দুই জেলার যাত্রীদের পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারীরাও দুর্ভোগে পড়েছে।

বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা বাধ্য হয়ে মাহেন্দ্র, ইজিবাইক ও ত্রিচক্রযানে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করছে।

রাজবাড়ী সড়ক পরিবহণ মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. মাহমুদুল হক জুয়েলের অভিযোগ, গোল্ডেন লাইন পরিবহণের রাজবাড়ী রুটে চারটি ট্রিপ পরিচালনার অনুমতি থাকলেও বর্তমানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫টি ট্রিপ পরিচালনা করা হচ্ছে। রাজবাড়ী ও পাংশায় গোল্ডেন লাইনের কাউন্টার থাকায় একটির পর একটি বাস চলাচল করছে। অথচ রাজবাড়ীর পরিবহণগুলো ফরিদপুরের ওই রুটে পর্যাপ্ত ট্রিপ পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছে না।

মো. মাহমুদুল হক জুয়েল বলেন, বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর ও রাজবাড়ী প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে আলোচনা করা হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। ২০২৩ সালেও বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

মো. মাহমুদুল হক জুয়েলের দাবি, আইন ও নির্ধারিত রুট অনুযায়ী দুই জেলার পরিবহণ মালিকদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

পরিবহন মালিকদের দাবি, ২০২৩ সালে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে গোল্ডেন লাইন পরিবহণের চারটি ট্রিপ পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি। কাগজে-কলমে গোল্ডেন লাইন পরিবহণের চারটি ট্রিপ কিন্তু তারা তা মানে না।

এদিকে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে ফরিদপুরের কোমরপুর এলাকায় রাজবাড়ীর রেখা পরিবহণের একটি বাস আটকে স্টাফদের মারধর, টাকা ছিনিয়ে নেওয়া ও বাস ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনার পর থেকেই রাজবাড়ী-ফরিদপুর রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

রাজবাড়ী থেকে ফরিদপুরগামী যাত্রীরা জানান, হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা বিপাকে। বিশেষ করে চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের দুর্ভোগ বেশি হচ্ছে। বিকল্প যানবাহনে চলাচলে অতিরিক্ত ভাড়াও দিতে হচ্ছে।

একতা পরিবহণের সুপারভাইজার জাহিদ অভিযোগ করেন, আজ বুধবার ফরিদপুরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল তার ওপর হামলার চেষ্টা করে এবং বাসের যাত্রীদের নামিয়ে দেয়। পরে তিনি যাত্রীদের ভাড়া ফেরত দিয়ে খালি বাস নিয়ে রাজবাড়ীতে ফিরে আসেন।

ফরিদপুর বাস মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরূপ রায় অপু বলেন, বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে ঢাকায় কেন্দ্রীয় পর্যায়েও জানানো হয়েছে।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন জানান, বাস চলাচল বন্ধের বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। সমস্যা সমাধানে দুই জেলার বাস মালিক সমিতির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *