শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার বিস্তার ও শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সরকার নতুন করে ৬৭০টি স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগ, কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
রোববার (১৪ জুন) দুপুরে রাজধানীর শেরাটন হোটেলে ইউনিসেফ আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রাথমিক শিক্ষাখাতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিশাল। প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং মোট শিক্ষার্থী প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ। এটি অত্যন্ত বড় একটি সেক্টর। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার ৫০০টি। প্রত্যেক স্কুলে ওয়াশরুম রয়েছে, তবে এ রুম উন্নত করার কাজ করছি।
তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগে কিছু জটিলতা রয়েছে। বিচারাধীন মামলার কারণে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ আটকে আছে, যা এক-দুই দিনের বিষয় নয় এটি তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে প্রায় ৮৩ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার কারণে আমরা এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষাতে কারিগরি শিক্ষা যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে এটি আরও কার্যকর হয়। মাধ্যমিক শিক্ষায় আমরা আরও স্কুল, কলেজ এবং ক্যাডেট কলেজ স্থাপন করার পরিকল্পনা নিয়েছি। ৬৭০টি নতুন স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে, যা একটি বড় উদ্যোগ। এ ধরনের বড় কর্মসূচি আগে কোনো সরকার নেয়নি। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিল্প ও একাডেমিক সংযোগ এখনো দুর্বল, এটি উন্নত করার কাজ চলছে। দক্ষতা উন্নয়নেও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।
এহছানুল হক মিলন বলেন, সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আমি যদি প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করি তার দ্বিতীয় বা তৃতীয় অগ্রাধিকার কী, তিনি বলবেন শুধু শিক্ষা। আমরা একটি শিক্ষিত ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চাই। ‘আগামী বাংলাদেশ’ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।
এসএন/কে