নতুন অস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানে হামলা চালালে নতুন অস্ত্র ও নতুন সক্ষমতা ব্যবহার করে আরও বিস্তৃত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

রবিবার সন্ধ্যায় ইরানের রাষ্ট্রীয় আল-আলম টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোহেবি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে যুদ্ধের ‘ভূগোল পরিবর্তন’ করবে তেহরান। নতুন সক্ষমতার অস্ত্র যুদ্ধে ব্যবহার করা হবে এবং এমন কিছু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে, যেগুলো আগে আক্রমণের শিকার হয়নি।

এর আগে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধে তেহরান ইসরায়েল ছাড়াও বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। আইআরজিসি জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য তারা প্রস্তুত।

সোমবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফও যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের আরও ‘পরাজয়ের’ হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ইরানে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও স্বার্থে টেকসই, কার্যকর ও বেদনাদায়ক হামলা চালানো হবে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর রবিবার অঞ্চলটিতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিমান চলাচল বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ ও অন্যান্য ভ্রমণ বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে সমঝোতা হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম সিকিউরিটি সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি ট্যাংকারে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় দুই নাবিক আহত হয়েছেন।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যও জড়িয়ে পড়েছে। ইরানের মিত্র গোষ্ঠী লেবাননের হিজবুল্লাহ তেহরানের সমর্থনে যুদ্ধে অংশ নিয়ে ইসরায়েল লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে।

হুথিরা অভিযোগ করেছে, ইয়েমেনে তাদের অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। গত ৪ সেপ্টেম্বর ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে হুথিরা বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর পর সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের লড়াই চলছে।

ইরান দাবি করেছে, হুথিরা স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অন্তর্বর্তী সমঝোতায় মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তেহরানকে ইয়েমেনের মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে রাখার বার্তা দিয়েছে বলে শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

সোমবার তেহরানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি ও ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনির মধ্যে বৈঠক হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক এবং বিভিন্ন চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে তারা আলোচনা করেন। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নাকভির সফরে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও নির্দিষ্ট প্রস্তাব আসার খবর নাকচ করেন।

গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরব পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনও একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে সৌদি আরবে হুথিদের হামলা বাড়লেও পাকিস্তান ও তুরস্ক এখনও সংঘাতে সেনা পাঠায়নি।

এদিকে জুলাইয়ে সৌদির পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরগুলো অবরোধের পর লোহিত সাগরে দেশটির তেলবাহী ট্যাংকারেও হামলা চালাচ্ছে হুথিরা। তবে গোষ্ঠীটির ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল ওয়াহিদ আবু রাস জানিয়েছেন, দক্ষিণ লোহিত সাগর বন্ধ করার কোনও পরিকল্পনা তাদের নেই এবং আলোচনায় বসতেও তারা প্রস্তুত।

সূত্র: আল-মনিটর

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *