ধীর গতিতে টুর্নামেন্ট শুরু করা স্পেন হয়ে উঠতে পারে ভয়ঙ্কর!

২০২৬ বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচে যখন স্পেন নিজেদের ছন্দ খুঁজছিল, তখন দর্শকরা দলের তারকা লামিনে ইয়ামালের অপেক্ষায় ছিলেন। ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা এই গোলশূন্য ড্র ম্যাচে কিছু মুহূর্তে ভালো খেলেছে- ২৭টি শট, যার মধ্যে সাতটি লক্ষ্যে, ফেরান তোরেসের সুযোগ এবং বাম দিক থেকে মার্ক কুকুরেয়ার দারুণ কিছু আক্রমণ তৈরি করার চেষ্টা।

কিন্তু সামগ্রিকভাবে স্পেন সাহসী ও সুসংগঠিত প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে একরকম সংগ্রামই করেছে বলা যায়। কেপ ভার্দের অনুপ্রেরণা ছিলেন গোলরক্ষক ভোজিনহা, যিনি বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ৪০ বছরে পা দিয়েছেন। স্পেনের বিরুদ্ধে ম্যাচে তিনি মোট ৭টি শট ঠেকিয়ে দলকে রক্ষা করেন।

গোল যখন হচ্ছিল না, তখন স্পেন সমর্থকরা ইয়ামালকে দারুণভাবে মিস করতে শুরু করেন। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে একদিন আগে নিশ্চিত করেছিলেন, ইয়ামাল ফিট আছেন, কিন্তু শুরুর জন্য এখনও প্রস্তুত নন; কিন্তু কেপভার্দের বিপক্ষে যখন গোলের দেখা পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন বাধ্য হয়ে তাকে ৭১তম মিনিটে মাঠে নামান কোচ। তবুও, গোলে অপেক্ষা শেষ পর্যন্ত পুরোয়নি।

স্পেনের সর্বশেষ বড় টুর্নামেন্ট ছিল, ইউরো ২০২৪-এ। যেখানে তাদের প্রাণবন্ত খেলা দেখা গিয়েছিল। দ্রুতগতির উইঙ্গার ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের প্রতিভাময় জুটির ওপর; কিন্তু এই মৌসুমে উইলিয়ামস তার ফর্ম হারিয়েছেন, আর ইয়ামাল এপ্রিল মাসে বার্সেলোনার হয়ে খেলার সময় পাওয়া চোট থেকে সেরে ওঠার জন্য লড়াই করছেন।

কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর স্পেনকে নিয়ে সংশয় আরও বাড়বে। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে জনসংখ্যার হিসাবে তৃতীয়-ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে স্পেন ৯০ মিনিটে ৭০০টিরও বেশি পাস সম্পন্ন করেছে। কিন্তু পোস্টে জালের দেখা আর তারা পাননি।

ম্যাচ শেষে কোচ দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘লামিনে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে তাদের (কেপ ভার্দে) খেলার ধরন বদলে যায়। আমরা ভেবেছিলাম সে যতক্ষণ খেলতে পারবে, ততক্ষণই খেলিয়েছি। আমরা নিশ্চিত, পরের ম্যাচে দল আরও ভালো করবে।’

স্পেনের ধীরগতিতে শুরু করার একটা ইতিহাস রয়েছে। বছরের পর বছর প্রতিভাবান দল হওয়া সত্ত্বেও, এ ধরনের টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্পেন প্রায়ই হতাশ করেছে। ২০১০ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলেও তারা প্রথম ম্যাচ হেরে গিয়েছিল সুইজারল্যান্ডের কাছে। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালেও তারা নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিততে পারেনি। ২০২২ সালে কোস্টারিকার বিরুদ্ধে ৭-০ ব্যবধানে জয় দিয়ে শুরু করেছিল, কিন্তু সেই আসরেও ভালো করতে পারেনি তারা।

২০২২ সালের আগে ১৪টি বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের মধ্যে মাত্র তিনবার তারা উদ্বোধনী ম্যাচ জিতেছিল: ১৯৩৪ সালে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে, ২০০২ সালে স্লোভেনিয়ার বিরুদ্ধে এবং ২০০৬ সালে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে।

কোচ দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘এই বিশ্বকাপে চরম সমতা এবং কঠিন পরিস্থিতি রয়েছে। (কেপ ভার্দে) স্পষ্টতই আমাদের চেয়ে দুর্বল ছিল, কিন্তু তারা যেটা করার দরকার ছিল, সেটা ভালোভাবে করেছে। আমাদের উন্নতি করে যেতে হবে। এই খেলোয়াড়দের যে প্রতিভা আছে, সেটাই একমাত্র পথ। আমরা শান্ত আছি। এটি একটি দীর্ঘ টুর্নামেন্ট এবং আমাদের মাথায় এখনও সাতটি ম্যাচ বাকি।’

অন্যদিকে ম্যাচ শেষে কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তা বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য সবকিছু। সবাই আমাদের দেশকে, আমাদের দলকে দেখেছে- আমাদের সংগঠন, আমাদের সাহস এবং আমাদের দৃঢ়তা দেখেছে।’

ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘যাই হোক না কেন, এই দল নির্ভরযোগ্য। এটি অসাধারণভাবে নির্ভরযোগ্য একটি দল। আমরা ৩২ ম্যাচ ধরে হারিনি। পরের ম্যাচে আমরা অবশ্যই আরও ভালো করব। আমরা এতে বিশ্বাস করি এবং এই বিশ্বাসই আমাদের এখানে নিয়ে এসেছে। আমরা বিনা কারণে এখানে আসিনি। আমরা ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন।’

তবুও উদ্বোধনী ড্র রোববার আটলান্টায় সৌদি আরবের বিরুদ্ধে স্পেনের পরবর্তী ম্যাচের আগে চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। স্পেন আশা করবে যে টেনেসির চ্যাটানুগাতে এক সপ্তাহের প্রশিক্ষণই ইয়ামালকে খেলার জন্য প্রস্তুত করতে যথেষ্ট হবে।

এসএন/কে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *