লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন আয়োজিত সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনা করে শিবিরনেতার দেওয়া বক্তব্যে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও রাজনৈতিক নেতাদের সামনেই হট্টগোল সৃষ্টি হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে জামায়াত-শিবির ও এনসিপিনেতারা দাওয়াত পেলেও বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এ অনুষ্ঠানে দাওয়া পায়নি।
আজ বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিতে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদি হাসান, পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, লক্ষ্মীপুর পৌর প্রশাসক সম্রাট খীসা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা, চন্দ্রগঞ্জের ইউএনও নিলুফা ইয়াসমিন নিপা, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্যাহ, জেলা ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি জহির উদ্দিন, জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সাহেদুর রহমান রাফি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আরমান হোসেন, মুখ্য সংগঠক সাইফুল ইসলাম মুরাদ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শিবিরনেতা সারোয়ার হোসেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে নিয়ে সমালোচনা করে বক্তব্য দেন। এতে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাছিরুজ্জামান রাহাতসহ নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এ ঘটনায় পুলিশ সুপার, সদরের ইউএনওসহ রাজনৈতিক নেতারা তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। সভায় সারোয়ারের আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা সাইফুল ইসলাম মুরাদও বিএনপির সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছিলেন।
শিবিরনেতা সারোয়ার হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, ২৫ জুলাই শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি গ্রেপ্তার হয়েছেন। এরপর আন্দোলনের নেতৃত্ব কে দিছেন, উনি কি জানেন? আমাদের সাইফুল ইসলাম মুরাদকে উনি নাকি চিনেন না। মুরাদকে আপনারা না চিনতে পারেন, লক্ষ্মীপুর ও সারা দেশের মানুষ চিনে। এসব বক্তব্যের পরই ছাত্রদল ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। আর এ সময় সারোয়ার বলেন, শান্ত হন আপনারা। বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করবেন না।
জেলা ছাত্রদল সভাপতি আবুল বারাকাত সৌরভ বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে প্রশাসন আমাদের দাওয়াত দেয়নি। এরপর আমাদের কয়েকজন নেতা সেখানে গেছেন। সেখানে শিবিরকর্মীরা উসকানিমূলক ও অশালীন বক্তব্য দেন। এতে আমাদের নেতারা প্রতিবাদ করেছেন।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, জুলাইযোদ্ধা হিসেবে আমিও এখানে দাওয়াত পাওয়ার কথা। কিন্তু আমি দাওয়াত পাইনি। জুলাই নিয়ে যে কমিটি করা হয়েছে, সেখানে বৈষম্য করা হয়েছে। এখনও যদি বৈষম্য করা হয়, তবে তা দুঃখজনক ব্যাপার।
সদরের ইউএনও ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, ঘটনার সময় ডিসি ও এসপি স্যারসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজনটি ছিল জেলা প্রশাসনের। সরকারি অনুষ্ঠান বলে বক্তাদের কিছুটা রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরে তা স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ সুপার আবু তারেক সাংবাদিকদের বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়েছে। তবে তেমন বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।