রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) সংলগ্ন এক ছাত্রাবাসের নিজ কক্ষ থেকে মো. মাহফুজুর রহমান নামের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আমজাদের মোড় এলাকার ‘আয়েশা টাওয়ার’ ছাত্রাবাস থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মো. মাহফুজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্থায়ী নিবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থানায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান এবং মতিহার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
মেসে থাকা অন্যান্য শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে ওই শিক্ষার্থী তার প্রেমিকার সঙ্গে ভিডিও কলে থাকা অবস্থায় আকস্মিকভাবে কক্ষের ভেতর আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বিষয়টি অপর প্রান্ত থেকে বুঝতে পেরে প্রেমিকা তাৎক্ষণিকভাবে ছাত্রাবাসের ম্যানেজারকে ফোন করে জানান। খবর পেয়ে মেসের ম্যানেজার এবং আশপাশের কক্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী দ্রুত ছুটে গিয়ে মাহফুজের রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। পরে তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে মাহফুজুরকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, বেলা আড়াইটার দিকে আমরা মেসের মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পারি। এরপর আমরা পুলিশ নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি। পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। তবে তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন বা কক্ষের ভেতর কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। প্রেমিকার ফোন পেয়ে মেসের কেয়ারটেকার ও বন্ধুবান্ধবেরা দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করে।
ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া বলেন, ‘খবর শুনেই আমরা বিভাগের শিক্ষকেরা এখানে এসেছি। কোনোভাবেই আমরা এটা ব্যাখ্যা করতে পারছি না যে এমন একজন মেধাবী শিক্ষার্থী কী করে নিজের জীবনের ওপর এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল; আমরা এটা কখনো কল্পনাও করতে পারিনি। তার সহপাঠীদের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, মাহফুজের যে কোনো একটা মানসিক বা ব্যক্তিগত সমস্যা যাচ্ছিল, সে বিষয়ে সহপাঠীরাও কেউ আগে থেকে কিছুই জানত না। এই অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক ঘটনা আমাদের বিভাগে পূর্বে কখনোই ঘটেনি। এ ধরনের ঘটনা এড়াতে আমার মনে হয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পর্কটা আরও নিবিড় হওয়া উচিত, যেন তারা নির্দ্বিধায় নিজেদের সংকটের কথা আমাদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারে।
ঘটনার তদন্তের বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবির জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে। মৃত্যুর আসল রহস্য উদঘাটনে পুরো বিষয়টি সব দিক থেকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।