গত দুই দশক সাংস্কৃতিক অঙ্গন ব্যাপক দলীয়করণের শিকার হয়েছে : সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

গত দুই দশকে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে দলীয়করণের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। এর ফলে দেশের সংস্কৃতি তার স্বাভাবিক ও নিজস্ব বিকাশের সুযোগ পায়নি। বিভিন্নভাবে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও শক্ত ভিত্তির ওপর গড়ে উঠতে পারেনি। আজ শনিবার (২০ জুন) বিকেলে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘নদীমাতৃক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংস্কৃতি একটি জাতির ঐতিহ্য, চেতনা ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্যে ছিল। বিশেষ করে অধিকাংশ জেলায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ, অবকাঠামো এবং কার্যকর কর্মসূচির যথেষ্ট অভাব ছিল। তিনি আরও বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে পুনর্গঠন করে সাধারণ মানুষের সংস্কৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের সেই নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা চাই সংস্কৃতি শুধু নির্দিষ্ট কিছু গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ জনগণের জীবনের অংশ হয়ে উঠুক।

বর্তমান সময়ে সুস্থ, সুন্দর ও সাবলীল সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের টেকসই উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যকর কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন, তৃণমূল পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার, শিল্পীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন প্রতিভাবান শিল্পী তৈরির বিশেষ উদ্যোগ। দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও শক্তিশালী করতে হলে শুধু অবকাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি শিল্পীদের মুক্ত বিকাশের জন্য একটি কার্যকর ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সলিম উল্লাহ সেলিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. খলিল গাজীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *