অভিনেত্রী ‘পারসা ইভানা’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট প্রকাশ করে পরিচালক ‘ফারহাদ আহমেদ ইশান’-এর বিরুদ্ধে পারিশ্রমিক পরিশোধে অনিয়ম ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগ তুলেছেন। ‘ফ্রড অ্যালার্ট’ শিরোনামে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি জানান, একটি কাজ শেষ করার প্রায় সাত মাস পরও তার প্রাপ্য সম্মানীর পুরো অর্থ হাতে পাননি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা ইউনিটের আরও কয়েকজন সদস্যের পাওনাও এখনো বাকি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে পারসা লেখেন, “আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। যোগাযোগ, পেশাদারিত্ব এবং পারিশ্রমিক—সব দিক থেকেই আমি হতাশ হয়েছি।” তার ভাষ্য, আংশিক অর্থ পরিশোধ করা হলেও চুক্তি অনুযায়ী সম্পূর্ণ পারিশ্রমিক এখনো দেওয়া হয়নি।
অভিনেত্রী জানান, নিজের অর্থের চেয়ে ইউনিটের অন্যান্য সদস্যদের পাওনা নিয়ে তিনি বেশি উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল কর্মীদের কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “আমি নিজের টাকা না পেলেও হয়তো মেনে নিতে পারি। কিন্তু যারা দিন এনে দিন খায়, সেই প্রোডাকশন বয়দের কী হবে? নতুন যারা ভালো কাজের আশায় কঠোর পরিশ্রম করছে, তারা কি তাদের প্রাপ্যটুকুও পাবে না?”
পারসার দাবি, তিনি গত বছরের ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে পরিচালক ফারহাদ আহমেদ ইশানের নির্মাণাধীন ‘নীলাঞ্জনা এক্সপ্রেস’-এ কাজ করেছিলেন। শুটিং শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও পুরো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।
সহকর্মীদের উদ্দেশে তিনি সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। তার পরামর্শ, কোনো নতুন কাজ শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ভালোভাবে খোঁজ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি সব ধরনের আর্থিক চুক্তি লিখিতভাবে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, স্বচ্ছতা ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত না হলে শিল্পাঙ্গনের কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে পারসা ইভানা জানান, গত ১৬ জুন পরিচালক তাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে ২৮ জুনের মধ্যে সব বকেয়া পরিশোধ করা হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। এরপরই তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন।
তিনি আরও জানান, শুধু তার নয়, ওই প্রজেক্টে যুক্ত আরও কয়েকজন শিল্পী ও কলাকুশলীরও পারিশ্রমিক বকেয়া রয়েছে। বিষয়টি তিনি ইতোমধ্যে অভিনয় সংঘকে মৌখিকভাবে অবহিত করেছেন।
এসএন/কে