বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিঞা গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানে সদ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন—এমন কোনো ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হলে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক নিরপেক্ষতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন সৃষ্টি হতে পারে।
আজ বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর এক প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে শামসুল আলমকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই এ বিতর্কিত নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছি। কারণ, উক্ত কর্মকর্তা অতীতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি কার্যক্রমের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন। এ অবস্থায় তাকে নির্বাচন কমিশনের মতো স্পর্শকাতর স্থানে নিয়োগ দেওয়া হলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের আশঙ্কা ও ধোঁয়াশা তৈরি হবে।’
মিঞা গোলাম পরওয়ার আরও যোগ করেন, এ ধরনের দলীয় বা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নিয়োগ নিশ্চিত করতে কমিশনের নিজস্ব আপত্তি ও সাংবিধানিক অবস্থান আরও দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করা প্রয়োজন। জামায়াতের দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন বিষয়টি নিজেদের মধ্যে পুনরায় পর্যালোচনা করবে বলে আশ্বস্ত করেছে।
বৈঠকে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেলের নেতৃত্বে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার এবং মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দীন সরকার ও অ্যাডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির উপস্থিত ছিলেন।