দেশের এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাখতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের অযোগ্য ঘোষণার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সুপারিশের আমরা বিরোধিতা করেছি।
আজ বুধবার (২৯ জুলাই) বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে জামায়াত সেক্রেটারি এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, দেশের নাগরিক হিসেবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদেরও সংবিধানসম্মত রাজনৈতিক ও নির্বাচনি অধিকার রয়েছে। অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেছেন। জাতীয় নির্বাচনেও তাদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেই।
মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন রেখে বলেন, জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও শুধু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অযোগ্য ঘোষণা করা হলে তা বৈষম্যমূলক হবে কী-না। জামায়াতের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে আগের বিধান বহাল রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। কমিশন বিষয়টি পর্যালোচনা করার আশ্বাস দিয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকলে সেই দলের পদধারী ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। আমরা মনে করি, কোনো ব্যক্তি যদি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব বা পদে থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, তাহলে সেটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেরই অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাই নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই।
জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের বিষয়েও আমরা নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে এসব প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিজেদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করে পরবর্তী সময়ে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। এতে নির্বাচনের মাঠে অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে। তাই আমরা রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন যদি দলীয় প্রতীক ছাড়া ও অরাজনৈতিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের কোনো প্রার্থীর পক্ষে সভা, সমাবেশ বা প্রচারণায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত নয়। আমরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিক তৎপরতা হিসেবে বিবেচনা করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়েছি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের তফসিল ও তারিখ ঘোষণা করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে সরকারের মন্ত্রীসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিরা নির্বাচন কখন হবে-এ বিষয়ে বিভিন্ন তারিখ ঘোষণা করছেন। নির্বাচন হবে কী-না, সে বিষয়ে রাজনৈতিক সরকারের সিদ্ধান্ত থাকতে পারে; কিন্তু নির্বাচনের তফসিল, তারিখ ও সময়সূচি নির্ধারণ এবং ঘোষণা করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তাই এ বিষয়ে কমিশনকে তার সাংবিধানিক ক্ষমতা ও দায়িত্ব যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
জামায়াত সেক্রেটারি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং সংবিধান তাকে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে। কমিশনের উচিত সরকারের সঙ্গে তার সাংবিধানিক পৃথক সত্তা ও দায়িত্ব বজায় রেখে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করা। তিনি নির্বাচন কমিশনকে আরও সতর্ক ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা নির্ভর করে তারা কতটা নিরপেক্ষভাবে সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে তার ওপর।
জামায়াতের সেক্রেটারি আরও বলেন, চট্টগ্রামের একটি নির্বাচনি বিষয়ে আদালতের আদেশের পর দ্রুত গেজেট প্রকাশ ও শপথের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আদালতের আদেশের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই কীভাবে এত দ্রুত গেজেট প্রকাশ ও শপথের ব্যবস্থা করা হলো, সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ ছিল কী-না, তা নিয়েও আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি।