বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে বিতর্ক থামছেই না। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে অবিচারের অভিযোগ তুলে একদিকে যেমন পুনরায় ফাইনাল আয়োজনের দাবি তুলেছেন আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা, অন্যদিকে ঠিক তার বিপরীত চিত্রও দেখা গেছে। আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করার দাবিতে শুরু হওয়া এক গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে ইতোমধ্যে ২৩ মিলিয়নের বেসি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।
গোল ডটকম জানিয়েছে, এই গণস্বাক্ষরে অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৩৩ লাখ ১৬ হাজার ১০৮ জনে। ‘লিভ আর্জেন্টিনা’ শিরোনামে চালু হওয়া এই আন্তর্জাতিক আবেদনটিতে ফিফা ও ম্যাচ রেফারির বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনা এবং দলটির অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আয়োজকদের দাবি, প্রতিযোগিতার ফল যদি আগেই নির্ধারিত থাকে, তবে অন্য দলগুলোর অংশগ্রহণ অর্থহীন হয়ে পড়ে। তাই সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রথমে ৫০ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হলেও দ্রুতই তা রেকর্ড গতিতে ২০ মিলিয়নের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের ‘জুবিলি ২০০০’ পিটিশনের পর এটিকে ইতিহাসের অন্যতম বড় গণস্বাক্ষর কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন।
তবে ম্যাচটির রেফারিং নিয়েও তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। স্লোভেনিয়ার রেফারি সেলাভকো ভিনচিচের বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমর্থকেরা। আর্জেন্টিনার ম্যাক অ্যালিস্টার ও নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ফাউল করেও কার্ড এড়িয়ে গেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে স্পেনের নিকো উইলিয়ামস ও ফেরান তোরেসের দুটি গোল বাতিল হওয়াও বিতর্ককে আরও উসকে দেয়।
এছাড়া, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক ফুটবল ও খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়েও ফুটবলপ্রেমীদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। বিশ্বকাপের এই ফাইনালকে ঘিরে বিতর্ক এখনও অব্যাহত রয়েছে, যা ফুটবল বিশ্বে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।