হবিগঞ্জে বজ্রাঘাতে ৩ জনের মৃত্যু

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, চুনারুঘাট ও বানিয়াচং উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রাঘাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছে। আজ রোববার (৭ জুন) সন্ধ্যায় এসব ঘটনা ঘটে।

বজ্রাঘাতে মৃত ব্যক্তিরা হলেন শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার কাজীরগাঁও গ্রামের আলতাফ আলীর স্ত্রী রাহেলা বেগম (৪৫), বাহুবল উপজেলার মিরপুর চকফাজিল গ্রামের সুরেশ দেবনাথের ছেলে রিংকু দেবনাথ (৩০) এবং বানিয়াচং উপজেলার শ্রীমঙ্গলকান্দি গ্রামের জয়দর আলীর ছেলে সুজন মিয়া (১৬)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আজ সন্ধ্যায় শায়েস্তাগঞ্জের কাজীরগাঁও গ্রামে বাড়ির পাশে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে রাহেলা বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন ও শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি মো. আবুল কালাম ও বানিয়াচং থানার ওসি বজ্রাঘাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অপরদিকে আজ বিকেলে চুনারুঘাট পৌরসভার হাতুণ্ডা এলাকায় বজ্রাঘাতে রিংকু দেবনাথ (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পীযূষ দেবনাথ (৩০) নামে একজন আহত হন।

নিহত রিংকু দেবনাথ বাহুবল উপজেলার মিরপুরের চকফাজিল গ্রামে। তিনি বেড়াতে এসে তার বোনের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। বিকেলে রিংকু দেবনাথ তার ভাগিনা পীযূষ দেবনাথকে সঙ্গে নিয়ে টিনের ঘরের চালায় উঠে পানির ট্যাংকি পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় বৃষ্টিপাত শুরু হলে হঠাৎ বজ্রাঘাতে দুজনই ঘরের ছাদ থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিংকু দেবনাথকে মৃত ঘোষণা করেন। পীযূষ দেবনাথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার খবর পেয়ে চুনারুঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মৃদুল কুমার ভৌমিক সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

একই দিন বিকেলে বানিয়াচং উপজেলার পৈলারকান্দি ইউনিয়নের শ্রীমঙ্গলকান্দি গ্রামে বজ্রাঘাতে চারজন আহত হন। গ্রামের একটি মাঠে ফুটবল খেলা দেখার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তারা আহত হন।

আহতরা হলেন— একই গ্রামের সুজন (২০), সিয়াম (১৫), হাফিজ উদ্দিন (২২) ও পারভেজ (২৫)। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। পরে গুরুতর আহত সুজনকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে রাত সোয়া ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বর্তমানে আহত সিয়াম, হাফিজ উদ্দিন ও পারভেজ বাড়িতে সুস্থ আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *