শারীরিক অবস্থা যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি

আদালত এড়াতে শিবিরনেতার অসুস্থতার দাবি

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান আহমেদকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তার জানতে পেরে আদালতে না যেতে অসুস্থতার দাবি করে বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কারা ওয়ার্ডে ভর্তি। তার শারীরিক অবস্থা যাচাইয়ে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, জিসানের শরীরে কোনো ধরনের শারীরিক জটিলতা পাওয়া যায়নি। 

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়,  পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছেন  জিসান। কাউকে দেখলে চোখ বন্ধ করে ফেলেন৷ আদালত এড়াতে আজ রোববার দিনভর চোখ খুলে কারো সঙ্গে কথা বলেননি। চোখ বন্ধ করেই কথা বলছেন। 

পুলিশের দাবি, জিসানের প্রকৃত শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে না পারায় আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। তাই তার শারীরিক অবস্থা যাচাইয়ে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. হেলালুর রহমানকে। কমিটিকে এক কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহাজাহান বলেন, ‘শারীরিক অবস্থা তদন্ত কমিটিকে সোমবার বেলা ১১টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার শরীরে কোনো জটিলতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কমিটির প্রতিবেদন পেলে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলেই আইনানুগ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গতকাল শনিবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, মামলার বাদী ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ের বিষয়টি এড়াতে জিসান অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ঘটনায় জড়িত উভয় পক্ষই বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে জিসান ও অভিযোগকারী নারীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের প্রাথমিক তথ্য পাওয়ায় তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ছাত্রশিবির।

উল্লেখ্য, কুমিল্লার দাউদকান্দির এক নারী জিসানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেই তিনি নিজেকে অসুস্থ দাবি করেন। বর্তমানে পুলিশ পাহারায় হাসপাতালের কারা ওয়ার্ডে তিনি চিকিৎসাধীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *