ক্রিকেটের ইতিহাসে লর্ডস শুধু একটি মাঠ নয়, এটি ক্রিকেটের ঐতিহ্য আর সম্মানের প্রতীক! সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে এবার আরও গভীরভাবে যুক্ত হলো বাংলাদেশের নাম। ক্রিকেটের আইন প্রণেতা মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) সম্মানসূচক আজীবন সদস্যপদ দিল বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে।
বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবের স্বীকৃতি তামিমের দীর্ঘ ক্রিকেট ক্যারিয়ারের আরেকটি বড় অর্জন। তার সঙ্গে একই সম্মান পেয়েছেন আরও চার ক্রিকেটার-সুজি বেটস, সোফি ডিভাইন, মেল জোন্স ও চেতেশ্বর পূজারা। পাঁচ ক্রিকেটারই এমসিসির এই সম্মান গ্রহণ করেছেন।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে তামিমের অবস্থান বরাবরই আলাদা। দেশের হয়ে দীর্ঘদিনের পথচলায় তিনি হয়ে উঠেছেন অন্যতম সেরা ব্যাটার। এমসিসিও তাদের ঘোষণায় তামিমের অবদানের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেছে।
এমসিসির ভাষায়, ‘বাংলাদেশের হয়ে এমসিসির সম্মানসূচক আজীবন সদস্যপদ পাওয়া অল্প কয়েকজনের একজন তামিম ইকবাল। তিনি দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটার হিসেবে বিবেচিত।’
২০০৮ সালে টেস্ট অভিষেকের পর তামিম বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে পাঁচ হাজারের বেশি রান করেছেন, যা দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তৈরি হয়েছে ওয়ানডে ক্রিকেটে। ২৪৩ ম্যাচে আট হাজারের বেশি রান করে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন তিনি।
তামিমের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত ২০১০ সালে এসেছিল ইংল্যান্ডের মাটিতে। লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শতক করে তিনি জায়গা করে নেন ঐতিহাসিক অনার্স বোর্ডে। বাংলাদেশের হাতে গোনা কয়েকজন ক্রিকেটারের একজন হিসেবে লর্ডসের সেই মর্যাদার তালিকায় নাম লেখান তিনি।
শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার প্রভাবের স্বীকৃতিও এসেছে একাধিকবার। ২০১১ সালে তিনি উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমানাকের বর্ষসেরা ক্রিকেটার এবং উইজডেনের বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার নির্বাচিত হন।
এমসিসি তামিমের নতুন ভূমিকাও উল্লেখ করেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি। ক্রিকেটার থেকে প্রশাসকের পথচলাতেও নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন বাংলাদেশের এই তারকা।
এমসিসির প্রধান নির্বাহী ও সেক্রেটারি রব লসন বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ৫ জন অসাধারণ ক্রিকেটারকে আমাদের নতুন সম্মানসূচক আজীবন সদস্য হিসেবে স্বাগত জানাচ্ছি। ক্রিকেটের প্রতি তাদের আজীবন নিবেদন ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান তারা প্রাপ্য। আগামী বছরগুলোতে এমসিসির সদস্য হিসেবে লর্ডসে তাদের স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় থাকব।’
১৭৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এমসিসি ক্রিকেটের আইনপ্রণেতা হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে ক্লাবটির পূর্ণ সদস্য রয়েছেন ১৮ হাজার ৩৫০ জন, পাশাপাশি রয়েছে আরও প্রায় ৬ হাজার সহযোগী সদস্য। লর্ডসের ঐতিহ্য রক্ষা, স্থানীয় পর্যায়ে ক্রিকেটের উন্নয়ন এবং বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান।
তামিমের জন্য এমসিসির এই স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও এক বিশেষ মুহূর্ত। লর্ডসের ইতিহাসে যেসব ক্রিকেটার নিজেদের ছাপ রেখে গেছেন, সেই তালিকায় বাংলাদেশের আরেকটি নাম যুক্ত হলো-তামিম ইকবাল।
এসএন/কে