ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার জিকোর পরিচয় শুধু একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড় হিসেবেই সীমাবদ্ধ নয়। নিজ দেশের ফুটবলে যেমন তিনি এক উজ্জ্বল নাম, তেমনি জাপানের ফুটবল ইতিহাসেও তার অবস্থান বিশেষ। তাই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ব্রাজিল ও জাপানের মুখোমুখি লড়াইয়ের আগে তার অনুভূতিও যেন দুই দেশের সঙ্গে সমানভাবে জড়িয়ে আছে।
হিউস্টনে আগামীকাল সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শেষ ৩২-এর ম্যাচে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও জাপান। স্বাভাবিকভাবেই এই ম্যাচে ব্রাজিলের পক্ষেই থাকবে জিকোর সমর্থন। কারণ তিনি একজন ব্রাজিলিয়ান, আর তার ফুটবল শেকড়ও সেই দেশেই। তবে একই সঙ্গে জাপানের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও সম্মানও স্পষ্ট।
জিকো জানিয়েছেন, জাপান যদি ব্রাজিলকে হারিয়েও দেয়, তাতেও তার কষ্ট থাকবে না। কারণ জাপানের ফুটবলের উন্নতির সঙ্গে তাঁর পরিবারেরও এক ধরনের সম্পর্ক রয়েছে।
কলুনা দো ফ্লাকে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে জিকো বলেন, ‘ব্রাজিল জিতলে দারুণ হবে, কারণ আমি ব্রাজিলিয়ান। কিন্তু যদি হেরে যায়, তাতেও আমি দুঃখ পাব না। কারণ জাপানের ফুটবলে কোইমব্রা পরিবারেরও একটু ছোঁয়া রয়েছে।’
এই বক্তব্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ এক ইতিহাস। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে জাপানের ক্লাব ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশটিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন জিকো। সুমিতোমো মেটালসের হয়ে খেলেছিলেন তিনি, যে ক্লাব পরে পরিচিত হয় কাশিমা অ্যান্টলার্স নামে। জাপানে পেশাদার ফুটবলের বিকাশের সময় তার উপস্থিতি ছিল বড় অনুপ্রেরণা।
শুধু খেলোয়াড় হিসেবেই নয়, পরে কোচ হিসেবেও জাপানের ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন জিকো। ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জাপান জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তাঁর অধীনে জাপান নতুন কৌশল, আত্মবিশ্বাস এবং আন্তর্জাতিক মানসিকতা অর্জনের পথে এগিয়ে যায়।
কাকতালীয়ভাবে, কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দুইবার ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে হয়েছিল জিকোকে। এর মধ্যে সবচেয়ে স্মরণীয় লড়াইটি ছিল ২০০৬ বিশ্বকাপে। সেই ম্যাচে ব্রাজিল ৪-১ গোলে হারিয়েছিল জাপানকে।
সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে জিকো বলেন, ‘জাপানের কোচ হয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে দাঁড়ানোর চেয়ে কঠিন আর কী হতে পারে? আমি সেই পরিস্থিতিতে দুবার পড়েছি।’
বিশ্বকাপের এবারের লড়াইয়ে তাই জিকোর জন্য ম্যাচটি শুধু ব্রাজিল বনাম জাপান নয়। এটি তার দুই প্রিয় ফুটবল সংস্কৃতির মুখোমুখি হওয়া। একদিকে তার জন্মভূমি ব্রাজিল, অন্যদিকে তার ফুটবল জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জাপান।
ব্রাজিল চাইবে নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে। আর জাপান চাইবে প্রমাণ করতে, তারা এখন আর শুধু সম্ভাবনাময় দল নয়—বিশ্ব ফুটবলের বড় মঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নেওয়া এক শক্তি।
জিকোর মতো একজন কিংবদন্তির কাছে তাই এই ম্যাচের জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে দুই দেশের ফুটবলের সম্পর্ক। তাঁর চোখে ব্রাজিলের সাফল্য যেমন আনন্দের, তেমনি জাপানের অগ্রগতিও গর্বের!
এসএন/কে