রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে মাইন বিস্ফোরণে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন (২৭) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে তার পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
নিহত জাহাঙ্গীর উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কান্দাইল-বাগপাড়া গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে।
এর আগে গত ২ মে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় ড্রোন হামলায় একই উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা রিয়াদ রশিদ (২৮) নামে আরেক যুবক নিহত হন।
জাহাঙ্গীরের ছোটভাই জাভেদ বলেন, তার ভাইয়ের বন্ধু মৃদুল ভিডিও বার্তার মাধ্যমে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। মৃদুল বর্তমানে রাশিয়ার একটি সেনা ক্যাম্পে কর্মরত আছেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। গত ১৮ মে একই ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশি নিহতসহ একজন আহত হয়েছে বলে মৃদুল জানায়। তার ভাষ্যমতে নিহত অপর দুজন হলেন–মাদারীপুরের মো. সুরুজ কাজী ও কুমিল্লার মো. ইউসুফ খান।
ভিডিও বার্তায় মৃদুল দাবি করেন, ‘আরাফা আল মনোয়ার এজেন্সি’-নামের একটি প্রতিষ্ঠান চাকরির কথা বলে তাদেরকে রাশিয়ায় পাঠায়। পরে বিভিন্ন কৌশলে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে তাদেরকে জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠানো হয়। তিনি এ ঘটনার জন্য ওই এজেন্সিকেই দায়ী করেন।
জাহাঙ্গীরের মৃত্যৃতে শোকে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। মা জাকিয়া বেগম ছেলের জন্য বিলাপ করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। জ্ঞান ফিরলেই ছেলের নাম ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে জাকিয়া বেগম বলেন, আমি আর কিছু চাই না। টাকা-পয়সা লাগবে না, আমার ছেলেটারে শুধু ফেরত চাই।
আড়াই বছরের ছেলে আজানকে কোলে নিয়ে জাহাঙ্গীরের স্ত্রী মাশুকা হোসাইন বলেন, ভালো চাকরি করে সংসারের ভাগ্য ফেরাতে রাশিয়া গিয়েছিল। কিন্তু তাকে যুদ্ধে পাঠানো হলো। এই যুদ্ধে শুধু সে না, আমরাও যেন শেষ হয়ে গেলাম।
জাহাঙ্গীরের শ্বশুর রফিকুল ইসলাম বলেন, রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি আমরা পরে জানতে পারি। আমি তাকে বলেছিলাম, যেভাবেই হোক দেশে ফিরে আসতে। কিন্তু সে আর ফিরতে পারেনি। তিনি আরও জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পরিবারের সঙ্গে জাহাঙ্গীরের শেষ কথা হয়। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, কিছুদিন নেটওয়ার্কের বাইরে থাকবেন।
নিহত জাহাঙ্গীরের বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন এবং মা জাকিয়া বেগম পোশাক কারখানার শ্রমিক ছিলেন। করোনাকালে পরিবারটি ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসে। এসএসসি পাস করার পর জাহাঙ্গীর একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করতেন। পরে স্ত্রী মাশুকা হোসাইনকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস শুরু করলেও আর্থিক সংকটের কারণে আবার গ্রামে ফিরে আসেন। চার মাস আগে ভালো চাকরির আশায় শ্বশুরবাড়ির আর্থিক সহায়তায় রাশিয়ায় যান জাহাঙ্গীর।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল কবির বলেন, অফিসিয়ালি কোনো তথ্য না পেলেও পরিবারের কাছ থেকে আমরা মৃত্যুর খবর জেনেছি। তিনি রাশিয়া সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।