কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায় রাতের আঁধারে পুকুর ভরাটের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় পুকুর ভরাটের কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সাভেটর (ভেকু) ও ভরাট করা বালু জব্দ করা হয়েছে।
গতকাল রোববার (৩০ আগস্ট) দিনগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বিবিরবাজার নজরুল একাডেমির পেছনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, ওই এলাকায় প্রায় দশমিক ৫৬ একর আয়তনের একটি পুকুর রাতের আঁধারে ভরাট করা হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমাতুজ জোহরার নেতৃত্বে বিজিবি, পুলিশ ও বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় পরিচালিত এ অভিযানে ঘটনাস্থলে উপস্থিত তিনজনকে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
অভিযানকালে পুকুর ভরাটের কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সাভেটর ও ভরাট করা বালু জব্দ করা হয়। জব্দ করা এক্সাভেটরটি বিধি মোতাবেক বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) জিম্মায় রাখা হয়েছে। জব্দ করা বালু প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে নিলামে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে ভরাট করা পুকুরটি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, পুকুর বা জলাধার কোনো ব্যক্তির ইচ্ছেমতো ভরাট বা শ্রেণি পরিবর্তন করার সম্পত্তি নয়। এটি পরিবেশ ও জনস্বার্থের অংশ। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলাকে জলাবদ্ধতার সমস্যা থেকে মুক্ত রাখতে জনস্বার্থে পুকুর ও জলাধার রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যারা এ ধরনের অবৈধ কাজে জড়িত আছেন, তাদের মনে রাখতে হবে—আইন ভঙ্গ করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
ইউএনও আরও বলেন, পুকুর ও জলাধার রক্ষা করা শুধু পরিবেশের জন্য নয়, নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবৈধভাবে পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।