মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে যেসব পদ্ধতি ফের চালু করল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। ফায়ারিং স্কোয়াড (গুলি করে মৃত্যুদণ্ড) পুনরায় চালুর পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ব্যবহৃত প্রাণঘাতী ইনজেকশন পদ্ধতিও আবার কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, তারা ‘ফেডারেল মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে’ পদক্ষেপ নিচ্ছে। এতে বলা হয়, আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত রায় কার্যকর করার পথ সুগম করা হচ্ছে। খবর দ্যা গার্ডিয়ানের।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগের মতো পেন্টোবারবিটাল-ভিত্তিক প্রাণঘাতী ইনজেকশন পদ্ধতি পুনর্বহাল করা হচ্ছে। একইসঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে ফায়ারিং স্কোয়াড যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াও সহজ করা হচ্ছে।

এছাড়া, জো বাইডেন প্রশাসনের সময় জারি করা ফেডারেল মৃত্যুদণ্ড স্থগিতাদেশ (মরাটোরিয়াম) বাতিল করা হয়েছে এবং ৪৪ জন আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৯ জনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন অনুমোদন করেছেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ।

ক্ষমতায় আসার পরই ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর জোরদারের নির্দেশ দেন এবং অঙ্গরাজ্যগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রাণঘাতী ইনজেকশন ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলেন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল পর্যায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত ছিল। সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড তখন এ বিষয়ে নীতিমালা পুনর্বিবেচনার জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে ট্রাম্পের আগের মেয়াদেই প্রায় ২০ বছর পর আবার ফেডারেল মৃত্যুদণ্ড কার্যকর শুরু হয়েছিল।

অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে বর্তমানে আইডাহো, মিসিসিপি, ওকলাহোমা, সাউথ ক্যারোলাইনা এবং উটাহ অঙ্গরাজ্যে বিশেষ পরিস্থিতিতে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমতি রয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডের প্রতি জনসমর্থন ধীরে ধীরে কমছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্তদের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে সমর্থন গত তিন দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। সংস্থা রিপ্রিভের এক কর্মকর্তা বলেন, এই সিদ্ধান্ত দেখায় যে যেকোনো মূল্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে চায় সরকার। কীভাবে তা করা হচ্ছে, সেটি যেন তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *