জিম্বাবুয়ে সফর শেষ হয়েছে স্বস্তির এক টি-টোয়েন্টি জয় দিয়ে। কিন্তু সেই জয় পুরো সফরের হতাশা ঢেকে দিতে পারেনি। ইনিংস ব্যবধানে টেস্ট হার, ওয়ানডে সিরিজে পরাজয় এবং তিন সংস্করণজুড়েই ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিক ব্যর্থতা বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে ব্যাটিংয়ের মান নিয়ে। সফর শেষে দেশে ফিরে সেই ব্যর্থতার দায় এড়িয়ে যাননি ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। বরং সমস্যার জায়গাটি স্পষ্ট করেই তুলে ধরেছেন তিনি।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আশরাফুলের মূল্যায়ন ছিল, জিম্বাবুয়ের উইকেটের অতিরিক্ত বাউন্সই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত বাউন্স ছিল, ওই বাউন্সে মানিয়ে নিতে আমাদের একটু সময় লেগেছে। টেস্ট ম্যাচটা আমরা ভালো করতে পারিনি। পরে তৃতীয় ওয়ানডেতে গিয়ে আমরা মানিয়ে নিতে পেরেছি। আমি মনে করি সামনে ২০২৭ বিশ্বকাপে ওভাবে আমরা হয়তো প্রস্তুতি নিতে পারব।
এই সফরে বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল সবচেয়ে বড় হতাশার জায়গা। তিন সংস্করণ মিলিয়ে কোনো ব্যাটসম্যানই সেঞ্চুরির দেখা পাননি। জিম্বাবুয়ের পেসারদের বাড়তি বাউন্স ও গতি সামলাতে বারবার হোঁচট খেয়েছেন টাইগার ব্যাটাররা। এমন বাস্তবতায় আশরাফুল মনে করেন, সফরের আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ থাকলে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অনেক সহজ হতো।
প্রস্তুতি ম্যাচের অভাবকে বর্তমান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের একটি বড় সীমাবদ্ধতা বলেও মনে করেন বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর আগে প্রস্তুতি ম্যাচ হয় না। আগে একটা তিন দিনের ম্যাচ বা একটা ওয়ানডে ম্যাচ হলে মানিয়ে নেওয়া সহজ হতো। ওই অপশনটা এখন নেই, এখন গিয়েই খেলতে হয়।’
জিম্বাবুয়ে সফরে একসময় একই সফরে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি-তিন সংস্করণেই সিরিজ হারার শঙ্কায় পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে শেষ টি-টোয়েন্টিতে নাটকীয় জয় সেই অস্বস্তি কিছুটা কমিয়েছে। তবু ব্যাটিং নিয়ে যে কাজ করার অনেক জায়গা রয়েছে, সেটি স্পষ্ট হয়েছে পুরো সফরজুড়েই।
এই ব্যর্থতার পর সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। আগস্টে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাবে বাংলাদেশ। সেখানে জিম্বাবুয়ের চেয়েও বেশি গতি ও বাউন্সের মুখোমুখি হতে হবে ব্যাটসম্যানদের। তবে আশরাফুলের বিশ্বাস, জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগবে।
আজ দেশে ফিরে তিনি বলেন, ‘এই সফরটা আমাদের অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও কাজে দেবে। যে অতিরিক্ত বাউন্স, গত সাত মাস ধরে আমরা আমাদের হোম কন্ডিশনে ভালো করছিলাম, কিন্তু আলাদা একটা কন্ডিশনে আমাদের একটু সময় লেগে গিয়েছে।’
অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে আশাবাদীও শোনালেন আশরাফুল। তার মতে, এবার প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকবে। বাংলাদেশ দল প্রায় ১০ দিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছাবে এবং তিন দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবে। ফলে স্থানীয় কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ মিলবে, যা জিম্বাবুয়ে সফরের মতো সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সহায়ক হতে পারে।
আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে।
২০০৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই হবে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সিরিজ। জিম্বাবুয়ের হতাশাজনক সফর থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার কঠিন চ্যালেঞ্জে কতটা প্রস্তুত হয়ে নামতে পারে টাইগাররা, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন!
এসএন/পিডিকে