বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও পতনের মুখে পড়েছে। আজ শুক্রবার (২৬ জুন) তেলের দাম কমেছে প্রায় ২ শতাংশ। খবর রয়টার্সের।
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৫০ ডলার বা ১ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭৩ দশমিক ৭৬ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক ৪৯ ডলার বা ২ দশমিক ০৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৭০ দশমিক ৪৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সামগ্রিকভাবে চলতি সপ্তাহে ব্রেন্ট এবং ডব্লিউটিআই উভয় জ্বালানি তেলের দামই প্রায় ৮ শতাংশ পতনের মুখে রয়েছে।
শিপিং ডেটা বা নৌ-চলাচলের তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দীর্ঘ প্রায় চার মাস বন্ধ থাকার পর পারস্য উপসাগরের ‘রাস তানুয়াহ’ টার্মিনাল থেকে পুনরায় তেল লোডিং বা সরবরাহ শুরু করেছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকো। টার্মিনালটিতে ইতোমধ্যে দুটি ‘ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার’ নামক দানবীয় ট্যাংকারে তেল ভর্তি করতে দেখা গেছে। আরও একটি ট্যাংকার কাছেই অপেক্ষায় রয়েছে। এই বিশাল ট্যাংকারগুলোর প্রতিটিতে ২০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত তেল ধারণের সক্ষমতা রয়েছে।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান স্পার্টা কমোডিটিসের সিনিয়র অ্যানালিস্ট জুন গোহ বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের সরবরাহ বাড়ার কারণে বাজারে স্বাভাবিকভাবেই বিক্রেতার চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে চীনের বাজারেও তেলের নতুন চাহিদা ওভাবে তৈরি না হওয়ায় দাম কমছে।
গত বৃহস্পতিবার ওমানের কাছে একটি কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনার পর বাজারে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের মতো বেড়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করলেও তেহরান জানিয়েছে, তাদের নির্ধারিত রুট ছাড়া চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তার দায়িত্ব তারা নেবে না। এই ঘটনার পর জাতিসংঘ তাদের স্বেচ্ছামূলক জাহাজ উদ্ধার মিশন সাময়িকভাবে স্থগিত করে।
তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহের পরিমাণ গত ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। মূলত যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পারস্য উপসাগরে শত শত জাহাজ ও ট্যাংকার আটকা পড়েছিল, সেগুলো এখন প্রণালি দিয়ে বের হয়ে আসছে। আইএনজির বিশ্লেষকেরা এক নোটে জানিয়েছেন, যোগানের এই বৃদ্ধি মূলত আটকে থাকা জাহাজগুলো বেরিয়ে যাওয়ার কারণে হচ্ছে। তবে উপসাগরের ভেতরে নতুন করে জাহাজের প্রবেশ এখনও বেশ সীমিত। ফলে আটকে থাকা জাহাজগুলো বের হয়ে গেলে সরবরাহ আবার কিছুটা কমতে পারে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর আগে এই প্রণাল দিয়ে দৈনিক গড়ে ১২৫টি জাহাজ চলাচল করলেও বর্তমান ট্রাফিক এখনও তার তুলনায় অনেক কম।
এদিকে গত বুধবার (২৪ জুন) ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শতাব্দীর সবচেয়ে বড় জোড়া ভূমিকম্পও তেলের বাজারে সাময়িক উদ্বেগ তৈরি করেছিল। তবে দেশটির বিশাল তেল, গ্যাস ও শোধনগার অবকাঠামোর প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মূল উৎপাদন অঞ্চল, পাইপলাইন ও টার্মিনালগুলো ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে দূরে থাকায় ক্ষয়ক্ষতি বেশ সীমিত।
তবে সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের ফলে ভেনেজুয়েলা তাদের দৈনিক প্রায় ১২ লাখ (১.২ মিলিয়ন) ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের স্বাভাবিক উৎপাদন ধারা কতদিন বজায় রাখতে পারবে, তা নিয়ে বড় ধরণের সংশয় তৈরি হয়েছে।