আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো দরপতন ঘটেছে। মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান ও যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বৃদ্ধির পূর্বাভাসের কারণে এই পতন। এর ফলে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম এখন ৪ হাজার ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। খবর রয়টার্সের।
আজ শুক্রবার (২৬ জুন) স্পট গোল্ডের দাম আউন্স প্রতি ৪ হাজার ০২৭ দশমিক ৯১ ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে। অন্যদিকে, আগস্টে সরবরাহের চুক্তি সম্পন্ন হওয়া মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ০৪৩ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের দাম সার্বিকভাবে ৩ দশমিক ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গত বুধবার (২৪ জুন) এটি ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর প্রথমবারের মতো ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল।
আর্থিক বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ান্দার সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট কেলভিন অং বলেন, ফেডারেল রিজার্ভের কড়া মুদ্রানীতি গ্রহণের দ্রুত সিদ্ধান্ত মার্কিন ডলারের বাজারে বড় ধরণের তেজি ভাব বা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি করেছে। আর এই শক্তিশালী ডলারের কারণেই শেষ পর্যন্ত স্বর্ণের দামে এমন বড় পতন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলার সূচকের টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো উত্থান ঘটেছে, যার ফলে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা বেশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ আউন্স প্রতি ৫ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৮২ ডলারে পৌঁছেছিল। তবে এরপর থেকে শুরু হওয়া কয়েক মাসের ধারাবাহিক সংশোধনের কারণে স্বর্ণের দাম তার রেকর্ড সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ইদোমধ্যে প্রায় ২৯ শতাংশ কমে গেছে। কেলভিন অং ধারণা করছেন, দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের দামের এই নিম্নমুখী সংশোধন আউন্স প্রতি ৩ হাজার ৪০০ ডলার পর্যন্ত নেমে যেতে পারে।
গত বৃহস্পতিবার রয়টার্সের এক অর্থনীতিবিদ জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, মে মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ৪ শতাংশের ওপর চলে গেছে। মূলত মার্কিন-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এই মূল্যস্ফীতি উস্কে উঠেছে, যা মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদের হার বাড়ানোর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সাধারণত স্বর্ণকে মূল্যস্ফীতিজনিত লোকসান এড়ানোর অন্যতম নিরাপদ বিনিয়োগ বা ‘হেজ’ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে এর আবেদন কমে যায়। কারণ স্বর্ণে কোনো নির্দিষ্ট লভ্যাংশ বা সুদ পাওয়া যায় না। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন যে ফেডারেল রিজার্ভ চলতি বছর মোট তিনবার সুদের হার বাড়াবে এবং আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৪ শতাংশ রয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও চলতি সপ্তাহে মন্দাভাব দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ৮০ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের আউন্স প্রতি প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১ হাজার ৬০৫ দশমিক ১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে অন্য ধাতুগুলোর বিপরীতে প্যালাডিয়ামের দাম আজ ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে আউন্স প্রতি ১ হাজার ২০০ দশমিক ৭৫ ডলারে উঠেেছ।