বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচকে ঘিরে ছিল বিশেষ আবহ! ফুটবল ইতিহাসের এই মাইলফলক ম্যাচে জিতবে যে দলটি, তাদের নামও আলাদা করে লেখা থাকবে স্মৃতির পাতায়। সেই সুযোগটি লুফে নিয়েছে জাপান। মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে শুধু তিন পয়েন্টই অর্জন করেনি এশিয়ার দলটি, একই সঙ্গে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযানের শক্ত অবস্থানও ঘোষণা করেছে।
আজ ম্যাচের শুরু থেকেই জাপানের ফুটবলে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। প্রতিপক্ষকে সময় না দিয়ে দ্রুত আক্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা সফল হয় মাত্র চার মিনিটেই। মাঝমাঠ থেকে গড়ে ওঠা চমৎকার এক আক্রমণের শেষ স্পর্শ দেন দায়চি কামাদা। তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগের ভিড়ের মধ্যেও তার দৃষ্টিনন্দন ভলি গোলরক্ষককে কোনো সুযোগ দেয়নি। গোলের পর তার অভিনব উদযাপন এবং গ্যালারিজুড়ে জাপানি সমর্থকদের উল্লাস যেন ম্যাচের বাকি সময়ের গল্প আগেই বলে দিচ্ছিল।
প্রথম গোলের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে জাপান। বলের নিয়ন্ত্রণ, গতিময় পাসিং আর রক্ষণ থেকে আক্রমণে দ্রুত রূপান্তর-সব মিলিয়ে তারা বারবার চাপে ফেলে তিউনিসিয়াকে। ৩১ মিনিটে সেই চাপেরই ফল আসে দ্বিতীয় গোলে। কো ইতাকুরার পাস থেকে আয়াসে উয়েদা সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন। গোলের মুহূর্তে তিউনিসিয়ার রক্ষণে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে, আর সেই দুর্বলতাকে নিখুঁতভাবে শাস্তি দেয় জাপান।
প্রথমার্ধে তিউনিসিয়ার পারফরম্যান্সে ছিল না প্রত্যাশিত ধার। মাঝেমধ্যে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও জাপানের সংগঠিত রক্ষণভাগের সামনে তারা ছিল প্রায় নিষ্প্রভ। উল্টো জাপানই পুরো ম্যাচের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করেছে। বিরতিতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা দলটি দ্বিতীয়ার্ধেও গতি কমায়নি।
খেলায় ফেরার আশায় একের পর এক পরিবর্তন আনেন তিউনিসিয়ার কোচ। কিন্তু মাঠের চিত্র বদলায়নি। জাপানের ফুটবলাররা প্রতিটি বিভাগে ছিলেন এগিয়ে। ৬৯ মিনিটে আসে তৃতীয় গোল, যা কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। এরপর আরও একবার জালের দেখা পেয়ে জাপান স্কোরলাইনকে ৪-০ তে নিয়ে যায়। শেষ দিকে তিউনিসিয়ার খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষাতেই ফুটে উঠছিল হতাশা, আর জাপানিরা তখন জয় উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
এই ফলাফলের গুরুত্ব শুধু বড় ব্যবধানে জয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ড্র করা জাপান দ্বিতীয় ম্যাচে দেখিয়েছে তারা কতটা পরিণত ও আত্মবিশ্বাসী। আক্রমণে কামাদা ও উয়েদার কার্যকারিতা, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণে শৃঙ্খলা-সব মিলিয়ে দলটি এখন নকআউট পর্বের অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অন্যদিকে গ্রুপ এফ-এর ম্যাচে তিউনিসিয়ার জন্য এই হার আরেকটি বড় ধাক্কা। প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ১-৫ গোলে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও চার গোল হজম করল তারা। দুই ম্যাচে নয় গোল খেয়ে মাত্র এক গোল করা আফ্রিকান দলটির জন্য বিশ্বকাপের পথ এখন প্রায় বন্ধ। টানা দুই হারে তাদের বিদায়ের শঙ্কা বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে।
বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচ শেষ পর্যন্ত পরিণত হলো জাপানের শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চে। ইতিহাসের বিশেষ দিনে তারা শুধু জয়ই পায়নি, বিশ্ব ফুটবলকে একটি বার্তাও দিয়েছে-এবারের আসরে ‘ব্লু সামুরাই’দের হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই!
এসএন/কে