বিশ্বকাপ শেষেই বিদায়, ঘোষণা দিলেন নয়্যার

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলেছিলেন দুই বছর আগেই। তখন মনে হয়েছিল, দীর্ঘ এক পথচলার শেষটা হয়ে গেছে। কিন্তু ভাগ্য যেন আরেকটি অধ্যায় লিখে রেখেছিল ম্যানুয়েল নয়্যারের জন্য।

২০২৪ ইউরোর পর জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়া জার্মান কিংবদন্তিকে আবারও ফিরিয়ে আনেন কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান। অভিজ্ঞতার মূল্য আর বড় মঞ্চে তার উপস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিশ্বকাপ দলে জায়গা দেন তিনি। সেই আস্থার প্রতিদান দিতে মাঠেও ফিরেছেন নয়্যার। তবে এবার তিনি জানিয়ে দিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে জার্মানির জার্সিতে তার শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট।

কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ গোলের দাপুটে জয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে জার্মানি। সেই ম্যাচটিই ছিল প্রায় দুই বছর পর জাতীয় দলের হয়ে নয়্যারের প্রথম উপস্থিতি। এদিকে নিজের অবসর, ফিরে আসা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। জার্মানির হয়ে আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও লুকাননি তিনি। ২০১৪ সালে ব্রাজিলে শিরোপা জয়ের স্মৃতি আছে তার ঝুলিতে। এবার বিদায়ের আগে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি স্পর্শ করার আকাঙ্ক্ষার কথাও তুলে ধরেন।

২০২৪ ইউরোর পর হঠাৎ সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নয়্যার জানান, তখন তার কাছে সেটিই সঠিক সিদ্ধান্ত মনে হয়েছিল। ভালো একটি টুর্নামেন্ট শেষ করার পর ইতিবাচক অনুভূতি নিয়েই তিনি বিদায় নিয়েছিলেন। জাতীয় দলের হয়ে আরও দুই বছর খেলে যাওয়া তার জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করত বলেও মনে করেছিলেন সে সময়।

তবে নাগেলসমানের পরিকল্পনায় আবারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন তিনি। বিশ্বকাপের জন্য জাতীয় দলে ফেরার ডাক পান এবং প্রথম পছন্দের গোলরক্ষকের ভূমিকাতেও ফিরে আসেন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘এটা একদম পরিষ্কার যে, এটাই আমার শেষ টুর্নামেন্ট। আগামী দুই বছর পর ইউরোতে খেলার কোনো পরিকল্পনা আমার নেই। গত কয়েকদিন ধরে আমি নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছি যে, এগুলোই জার্মানির হয়ে আমার শেষ ম্যাচ। তবে আমি বিদায়ী সংবর্ধনা বা বিদায়ী জার্সি নিয়ে ভাবছি না, আমি প্রতিটি ম্যাচ উপভোগ করতে চাই।’

এদিকে নয়্যারের প্রত্যাবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে অলিভার বাউম্যানের ওপর। অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক না ফিরলে বিশ্বকাপে জার্মানির এক নম্বর হিসেবে খেলার সম্ভাবনা ছিল বাউম্যানের। কিন্তু নয়্যারের ফেরায় তাকে আবার বেঞ্চের ভূমিকায় ফিরে যেতে হয়েছে। এ নিয়ে দলের ভেতরে কোনো অস্বস্তি তৈরি হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নও উঠেছে। নয়্যারের দাবি, আমরা একে অপরকে সমর্থন করি এবং দলের জন্যই অনুশীলন করি। আমাদের নিজেদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।’

সবকিছু ঠিক থাকলে বিশ্বকাপের শেষ দিন পর্যন্ত জার্মানির গোলবারে দেখা যেতে পারে এই নয়্যার। আর সেটিই হবে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়। এখন গোলরক্ষকের সামনে লক্ষ্য একটাই, বিদায়ের আগে আরেকবার বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তোলা।

এসএন/কে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *