বান্দরবানে ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসব শুরু

বান্দরবানে প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’ (প্রবারণা) মেতেছে মারমা সম্প্রদায়। আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় স্থানীয় রাজারমাঠে তিন দিনব্যাপী উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

আনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরি, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, বান্দরবান সেনা রিজিয়নের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা, পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সন্ধ্যায় স্থানীয় পুরাতন রাজবাড়ি মাঠ থেকে ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসবের মূল আকর্ষণ অমঙ্গল দমনকারী ড্রাগন আকৃতির মঙ্গলরথে বুদ্ধমূর্তি স্থাপন করে রথটি ঐতিহ্যবাহী রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারে অবস্থানরত আসাংম্রাইকে (গৌতম বুদ্ধকে স্মরণ করে) বন্দনা করার উদ্দেশে রশি দিয়ে টেনে টেনে নেওয়া হয়। পরে সেখানে বন্দনা শেষে উজানীপাড়া বৌদ্ধ বিহারে অবস্থানরত পদমুং আসাংকে বন্দনা করার উদ্দেশে টেনে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় বৌদ্ধ ধর্মের নর-নারীরা মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বুদ্ধ মূর্তিকে। এ সময় রথযাত্রা দেখতে রাস্তার দুই পাশে উপচেপড়া ভিড় জমে।

এদিকে উৎসব ঘিরে স্থানীয় রাজারমাঠে শিল্পীগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা হয়েছে। এ ছাড়া পিঠা তৈরি উৎসব এবং গৌতম বুদ্ধের স্মরণে আকাশে রং-বেরঙের শত শত ফানুস বাতি উড়ানো হয়েছে। পাহাড়ি পল্লীগুলো ছাড়াও প্রতিটি বৌদ্ধ বিহার থেকে ফানুস বাতি উড়ানো হয়। 

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা জানায়, তিন মাস বর্ষাবাস (উপোস) থাকার পর পাহাড়ি মারমা সম্প্রদায়ের লোকজন ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে (প্রবারণা পূর্ণিমা) উৎসব পালন করে আসছে বহুকাল ধরে। প্রচলিত আছে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধ এই আশ্বিনী পূর্ণিমায় তার মাথার চুল আকাশে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাই আশ্বিনী পূর্ণিমার এই তিথিতে আকাশে উড়ানো হয় শত শত ফানুস বাতি। পাহাড়ের মারমা সম্প্রদায় নিজস্ব সামর্থ্য অনুযায়ী ফানুস বাতি বানিয়ে আকাশে উড়িয়ে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধকে স্মরণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *