বড় মতপার্থক্য থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে তেহরান

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি প্রস্তাব নিয়ে ইরান আলোচনা চালিয়ে গেলেও উভয় পক্ষের মধ্যে এখনও ‘গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ’ মতপার্থক্য রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে তেহরান। একই সময়ে আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের ওপর নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন—এমন খবরও সামনে এসেছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২২ মে) পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরানে পৌঁছে গভীর রাত পর্যন্ত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে উত্তেজনা বৃদ্ধি ঠেকাতে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খবর আল জাজিরার। 

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ‘সরকারি পরিস্থিতির’ কারণে তিনি ছেলের বিয়েতে অংশ নেবেন না এবং ওয়াশিংটনেই থাকবেন। এতে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন, চলমান আলোচনা এখন ‘চুক্তি অথবা নতুন হামলার মাঝামাঝি অবস্থায়’ রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সতর্ক করে বলেন, আসিম মুনিরের সফর মানেই কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি নয়। এখনও বড় ধরনের মতবিরোধ রয়ে গেছে।

আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি রেসুল সারদার আতাস বলেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সফর নিজেই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এখনও সমঝোতা থেকে পক্ষগুলো অনেক দূরে রয়েছে।

রেসুল সারদার আতাস জানান, আরাঘচি তুরস্ক, ইরাক, কাতার ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গেও ফোনে আলোচনা করেছেন।

এরই মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার চার দিনের সফরে চীনে গেছেন। ইরানের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার চীনের সঙ্গে এই সফরে চলমান সংকট সমাধানের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক এই যুদ্ধ শুরু হয়। ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির পর কয়েক দফা আলোচনা হলেও এখনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র করে তুলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *