প্রেমের টানে পীরগঞ্জে চীনা যুবক, উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে

রংপুরের পীরগঞ্জে চীনের এক যুবকের সঙ্গে আবিদা সুলতানা (অনামিকা) নামের এক কিশোরীর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের প্রথমডাঙ্গা গ্রামে কনের মামা রাশেদুল ইসলামের বাড়িতে গতকাল ১০ সেপ্টেম্বর ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী তাদের বিয়ে পড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেছে কনের পরিবার।

এ ঘটনায় এলাকায় কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

কনের পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই কিশোরীর বাড়ি মিঠিপুর ইউনিয়নের মিঠিপুর গ্রামে। চলতি বছর সে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। তার বাবা মো. সোলাইমান মিয়া ও মা মোছা. লাকি বেগম।

পরিবার জানায়, চীনা যুবকের নাম ঝাওহুইয়ান। বিয়ের পর তার নাম ‘আয়ান ইসলাম’ রাখা হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট ঝাওহুইয়ান বাংলাদেশে আসেন। এরপর উভয় পরিবারের সম্মতিতে ১০ সেপ্টেম্বর প্রথমডাঙ্গা গ্রামে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

পরিবারের দাবি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই কিশোরীর সঙ্গে চীনা যুবকের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই তিনি চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন এবং উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের আয়োজন করা হয়।

কনের বাবা মো. সোলাইমান মিয়া বলেন, ‘দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের বিষয়টি সম্পন্ন হয়েছে। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে পড়ানো হয়েছে।’

কনের মা মোছা. লাকি বেগম বলেন, “মেয়ের সম্মতি ও পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। চীনা যুবকটি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ‘আয়ান ইসলাম’ নাম নিয়েছেন বলে আমরা জানি।”

শানেরহাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘শুনেছি তাদের মধ্যে আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে চীন থেকে ওই যুবক বাংলাদেশে আসেন। পরে এখানে তাদের বিয়ে পড়ানো হয়েছে।’

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ‘চীনা নাগরিকের সঙ্গে স্থানীয় একটি মেয়ের বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকেই তাকে দেখতে ও বিষয়টি জানতে সেখানে এসেছে।’

তবে কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বিয়েটি আইনগতভাবে বৈধ কি না এবং বিয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *