রাজপথে বিরোধী দলের ভূমিকা নিতে চায় বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরা। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে না পাওয়ার আক্ষেপ আর সংসদের বিরোধী দলের কার্যকর বিরোধিতা নিয়ে প্রশ্ন- এই দুই সমীকরণ নতুন জোটের পথে হাঁটছে তারা।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও নাগরিক ঐক্যের নেতারা বলছেন, জোট গঠন হলেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় তারা মাঠে নামতে চান।
তবে গণতান্ত্রিক চর্চায় এটি ভালো উদ্যোগ হলেও এটি যেন সরকারের সঙ্গে শরিকদের দরকষাকষির নতুন দোকান না হয় তা নিশ্চিত করার তাগিদ বিশ্লেষকের।
আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে সরব ছিল বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টি, নাগরিক ঐক্য, গণতন্ত্র মঞ্চ, সমমনা জোটসহ অন্তত দেড় ডজন রাজনৈতিক দল। বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হয়ে জুলাই অভ্যুত্থানে তারা শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটায়। এসব দলকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন এবং সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি ছিল বিএনপির।
গত বছরের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। মন্ত্রিসভাতে জায়গা পান জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুর। জোটের প্রার্থী হলেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ভোটের মাঠে হেরে যান বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। সরকারকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিলেও রাজনীতির মাঠে বিএনপির সঙ্গে বাড়ছে দূরত্ব।
সাইফুল হক বলেন, বিপুল বিজয় বিএনপিকে হয়তো অনেক বেশি আস্থাশীল করেছে। হয়তো মনে করছে আপাতত তাদের আর কোনো শরিকের প্রয়োজন নেই। তারা একাই চলতে পারবে।
পাশাপাশি সংসদে জুলাই সনদ, বাণিজ্য চুক্তির মতো ঘটনায় বিরোধী দলের প্রতিবাদকে কার্যকর মনে করছেন না এসব দলের নেতারা। রাজপথে বিরোধী দলের শুন্যতা গণতন্ত্রের জন্য অশুভ সংকেত বলে মনে করেন তারা।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, জামায়াত বিরোধী দল হিসেবে প্রতিবাদ করছে না তা না। শুনেছি জুলাই মাসে তারা তাদের মতো করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। তখন বলবে, এটা একটা অন্যায় হয়েছে। কিন্তু এমন কোনো চাপ তৈরি করবে না যাতে মানুষ যা চায় সরকার সেই জায়গায় আসতে বাধ্য হয়। বিরোধী দলের আন্দোলনের জায়গায় গ্যাপ আছে। আমি মনে করি, ওই জায়গাটা তৈরি করতে হবে।
বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, আমরা নতুন কিছু চিন্তা করছি। তার মধ্যে মঞ্চের কিছু দল থাকতে পারে। মঞ্চের বাইরের রাজনৈতিক দল থাকতে পারে। যাদের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের পথচলা।
বিরোধী জোট গঠনের এই প্রচেষ্টা আদর্শিক জায়গা থেকে নাকি মূল্যায়ন না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে তা নিয়ে শঙ্কা রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ শায়ানের। তবে, দুই বলয়ের বাইরের দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টাকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি।
আসিফ শায়ান বলেন, এই দলগুলো একটা সময় বিএনপির শরিক দল ছিল। তাদের অনেকেই বিএনপির হয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। আমাদের বিরোধী দল দরকার। ব্যাপারটা আসলে কতখানি বিরোধী দলের জোট গঠনের আর কতখানি নেগোসিয়েশনের টুল হিসেবে থেকে ব্যবহার হবে সংজ্ঞাটা থেকে যাবে। আসলেই একটা শক্তিশালী বিরোধী দল দরকার। আইডলজিক্যালি লিবারেল পজিশন থেকে একটি বিরোধী দল দরকার।
বিএনপি-জামায়াতের বাইরে অন্যান্য দল, বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ সবাইকে এক করে দ্রুত সময়ের মধ্যেই নতুন জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশের লক্ষ্য উদ্যোক্তাদের।
এসএন/কে