ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় সরকার ও সিজেপির যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছিল আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি।
শনিবার (২৫ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের নিজ নিজ জায়গায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিজেপি। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রেখে তারা ‘সদিচ্ছা’ থেকে আন্দোলন প্রত্যাহার করছে।
সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে আন্দোলন সমাপ্তির ঘোষণা দেন।সৌরভ দাস বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি পূরণ হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে সরকার আশ্বাস দিয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার আমাদের দাবি মেনে নিয়েছে। আমরা সব আন্দোলনকারীকে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান প্রত্যাহার করে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর সরকার তাদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছে। তাদের দাবি কোনো উগ্র দাবি ছিল না, বরং শিক্ষার্থী ও শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত মৌলিক বিষয়গুলো নিয়েই ছিল।
সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক কোটি রুপি ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছিল। সরকার জানিয়েছে, প্রচলিত নিয়ম ও বিধিমালা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।
এ ছাড়া ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে সংসদ অভিমুখে মিছিলের পর আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহারের বিষয়েও সরকার সম্মতি দিয়েছে বলে জানানো হয়।
সৌরভ দাস বলেন, দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে মামলাগুলোর কপি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যে তা পাওয়ার আশা করছে সিজেপি।
তিনি আরও জানান, শিক্ষাব্যবস্থা ও পরীক্ষা সংস্কার নিয়ে তাদের পাঁচ দফা দাবির একটি সনদ সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রায় চার সপ্তাহ পর আবারও সরকারের সঙ্গে আলোচনা হবে।
গত এক মাসের বেশি সময় ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা এই আন্দোলনের কারণে আশপাশের এলাকায় যান চলাচল, বাজার কার্যক্রম ও মেট্রো পরিষেবায় প্রভাব পড়ে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর পুলিশ মাইকিং করে আন্দোলনকারীদের অবস্থান ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়।
এসএন/পিডিকে