দেশে ফেরা নিয়ে ভাঙলেন নীরবতা, কবে ফিরবেন সাকিব?

দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে আছেন সাকিব আল হাসান। রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই অলরাউন্ডারকে ঘিরে নানা আলোচনা থামেনি। কখন ফিরবেন, আদৌ কি ফিরবেন, জাতীয় দলে আবার দেখা যাবে কি না-এমন প্রশ্ন বারবার এসেছে। এবার লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে জাফনা কিংসের হয়ে খেলতে গিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম রেভস্পোর্টস-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের ভবিষ্যৎ, বাংলাদেশ ক্রিকেট এবং দেশের প্রতি অনুভূতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।

সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে তার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ। দীর্ঘদিন পর এই বিষয়ে আশাবাদী কণ্ঠেই কথা বলেছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক। যেমনটা বলছিলেন দেশের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা এই ক্রিকেটার ‘আমরা সবাই বাংলাদেশকে মিস করি। দেশে ফেরার বিষয়ে আমি খুবই আশাবাদী এবং আশা করি খুব শীঘ্রই তা সম্ভব হবে।’

সাকিবের এই বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বাইরে থাকা এই অলরাউন্ডারের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই তার কণ্ঠে ফিরে এসেছে আশাবাদের সুর।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান শক্তি নিয়েও নিজের মূল্যায়ন দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে পেস বোলিংয়ের উন্নতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও অন্য বিভাগে ভারসাম্য ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন, ‘দেখুন, আমি মনে করি এটি আমাদের ক্রিকেটের জন্য দারুণ এক সম্ভাবনা, কারণ পেসাররা খুব ভালো করছে। তবে ব্যাটিং এবং স্পিন বোলিংয়ের মতো অন্য বিভাগগুলোতে আমরা পিছিয়ে পড়তে পারি না। এগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পেসাররা ভালো করছে এটা যেমন ঠিক, তেমনি আমাদের ব্যাটার ও স্পিনাররাও যদি তাদের খেলা উন্নত করে, তবে দল শক্তিশালী হয়ে উঠবে আরও।’

লর্ডসে দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাংলাদেশ টেস্ট খেলবে। আসছে বছরের সেই লড়াই ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন তিনি, ‘আসলে লর্ডসের মতো ভেন্যুতে আমরা যত বেশি খেলব, তা আমাদের ক্রিকেটের জন্য ততই ভালো। আমি আশা করি ভবিষ্যতে আমরা এ ধরনের আরও সুযোগ পাব।’

একটা সময় আইপিএলে নিয়মিত ছিলেন সাকিব। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের প্রসঙ্গে ওই টুর্নামেন্টের কথা উঠতেই নস্টালজিক হয়ে ওঠেন সাকিব। তবে আক্ষেপের চেয়ে নিজের অর্জন নিয়েই বেশি সন্তুষ্ট তিনি, ‘আইপিএলে না থাকাটা অবশ্যই মিস করি। তবে সবকিছুরই একটা সময় থাকে। ভুল যদি না করি তবে আমি আট মৌসুম খেলেছি। ব্যক্তিগত কারণ ও এনওসি সমস্যার কারণে আরও দুই মৌসুম হয়তো খেলতে পারতাম। তাহলে প্রায় ১০ মৌসুম খেলা হতো। খুব কম খেলোয়াড়ই আইপিএলে ৮ থেকে ১০ মৌসুম খেলার সুযোগ পায়।’

সাকিবের বয়স এখন ৩৯। অনেকেই বলছেন, ক্যারিয়ারের শেষটাতে দাঁড়িয়ে তিনি। নিচের বয়স নিয়ে সমালোচনার জবাবে তার সংক্ষিপ্ত কিন্তু স্পষ্ট বক্তব্য, ‘আমি বিশ্বাস করি পারফরম্যান্সই একমাত্র মাপকাঠি হওয়া উচিত।’

জাতীয় দলের হয়ে খেলাকে কতটা মিস করেন-এমন প্রশ্নের উত্তরে সাকিবের উত্তর ছিল ব্যতিক্রমী। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ‘দেখুন, বাংলাদেশের হয়ে খেলাটা আমি সেভাবে মিস করি না, কারণ আমি অনেক বছর খেলেছি। আপনি যখন এত দীর্ঘ সময় দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, তখন ৬০ বছর বয়সেও সেই স্মৃতিগুলো আপনার মনে থাকবে। তবে তার মানে এই নয় যে আপনি চিরকাল খেলে যেতে পারবেন। আমার একটি লম্বা ক্যারিয়ার ছিল, তাই খেলাটাকে আমি অত মিস করি না। তবুও আরও কিছুদিন খেলতে পারলে ভালো লাগত আমার।’

এখানেই শেষ নয় সেই সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের সমর্থকদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত হলেও আবেগঘন বার্তা দিলেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার, ‘আমি জানি, যেকোনো পরিস্থিতিতেই তারা আমাকে সমর্থন করে যাবেন।’

ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে সাকিবের প্রতিটি বক্তব্যে ফুটে উঠেছে দেশের প্রতি টান, বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে তার ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকবে সম্ভবত তার এই একটি বাক্যই- ‘দেশে ফেরার বিষয়ে আমি খুবই আশাবাদী এবং আশা করি খুব শীঘ্রই তা সম্ভব হবে।’ কারণ, সেটিই নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে তার দেশে ফেরার প্রত্যাশা!

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *