তিন বছর পর দলে ডাক পেয়ে কি করেছিলেন নেইমার?

ফুটবলে এক অভাগা রাজপুত্র ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়র। যার অসম্ভব প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও সেটি প্রকাশ করতে পারেননি বারবার চোটের থাবায়। সর্বশেষ ২০২৩ সালের অক্টোবরে ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। এরপর চোটের কারণে প্রায় তিন বছর হয়ে গেল জাতীয় দলের বাইরে সেলেসাও তারকা।

এই সময়ে কয়েকবার সুস্থ হয়েছেন আবারও চোটে পড়েছেন। বারবার এই চোটে পড়ার কারণে এখনো শতভাগ ফিট নন নেইমার। ক’দিন পরই মাঠে গড়াবে ‘গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ’ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপ। চোটে জর্জরিত নেইমারকে সেই দলে রাখা হবে কি না সেটিই ছিল সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।

নেইমারকে দলে রাখার আলোচনা গড়িয়েছিল ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে পুরো ফুটবল বিশ্বে। এমনকি প্রতিপক্ষ দলের ফুটবলারও চেয়েছেন নেইমার যেন বিশ্বকাপ দলে থাকেন। আলোচনা স্বার্থক হয়েছে। নেইমারকে নিয়েই বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

সোমবার (১৮ মে) বাংলাদেশ সময় দিনগত রাতে জমকালো আয়োজন শেষে দল ঘোষণা করেন আনচেলত্তি। দলে নিজের নাম শোনার পর দীর্ঘ সময় ধরে কেঁদেছেন বলে জানিয়েছেন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। বান্ধবী ব্রুনা বিয়ানকার্দি ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে সেই আবেগঘন মুহূর্ত উদযাপনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন নেইমার।

দলে ডাক পাওয়ার আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিওটি নিজের ইউটিউব চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে নেইমার লিখেছেন, ‘আমার জীবনের অন্যতম আবেগপূর্ণ ও আনন্দের একটি দিন।’

পরবর্তীতে নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোস টিভিতে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নেইমার বলেন, ‘দলে নিজের নাম দেখার পর আমি কয়েক ঘণ্টা ধরে অঝোরে কেঁদেছি। এখানে পৌঁছানোটা কত কঠিন ছিল, তা কেবল আমিই জানি। নাম ঘোষণার পর মনে হলো, এতদিনের সব কষ্ট আর চেষ্টা আজ সার্থক হয়েছে।’

সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলালে চোট জর্জরিত একটি অধ্যায় পার করার পর, ফর্ম ও ফিটনেস ফিরে পেতে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নিজের পুরোনো ক্লাব সান্তোসে যোগ দেন নেইমার। জাতীয় দলে ফেরার পেছনে এই ক্লাবের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

নেইমার বলেন, ‘সান্তোসে ফিরে আমি চেনা ছন্দ খুঁজে পেয়েছি। আমার এই সুযোগ পাওয়াটা শুধু আমার একার নয়, এর পেছনে মাঠের ও মাঠের বাইরের অনেক মানুষের অবদান রয়েছে।’

ব্রাজিলের হয়ে রেকর্ড গোল এবং বিশ্বজোড়া তারকাখ্যাতি থাকলেও নেইমার ভালো করেই জানেন, বিশ্বকাপের মূল একাদশে জায়গা করে নেওয়াটা সহজ হবে না। কোচ আনচেলত্তি আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অতীতে কে কত বড় তারকা ছিলেন— তা দেখে একাদশ সাজানো হবে না। বর্তমান পারফরম্যান্সই হবে মূল মাপকাঠি।

তবে কোচের এমন চ্যালেঞ্জের মুখেও বেশ আশাবাদী সাবেক বার্সেলোনা ও পিএসজি তারকা। সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সবসময় আমার ওপর বিশ্বাস রাখার জন্য আপনাদের কৃতজ্ঞতা জানাই। হেক্সা (ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা) জয়ের মিশনে নামা এই ব্রাজিল দল এখন পুরোপুরি ঐক্যবদ্ধ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *