টানা ১৬ ম্যাচ অপরাজিত নেদারল্যান্ডস, ডাচ দুর্গ ভাঙতে প্রস্তুত ব্লু সামুরাইরা

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে ইউরোপের শক্তিশালী দল 

নেদারল্যান্ডস এবং এশিয়ার উদীয়মান শক্তি জাপান। গ্রুপ ‘এফ’-এর এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে (আর্লিংটন)। টুর্নামেন্টের শুরুতেই দুই দলের লক্ষ্য একটাই পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।

নেদারল্যান্ডস পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে কিছুটা এগিয়ে। বিশ্বকাপ ইতিহাসও তাদের পক্ষে কথা বলে। তারা শেষ ১৬টি গ্রুপ ম্যাচে অপরাজিত, যার মধ্যে ১২টি জয় এবং ৪টি ড্র রয়েছে। পাশাপাশি শেষ ৯টি বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচে তারা কখনোই হারেনি।

তবে নেদারল্যান্ডসের ইতিহাসে সাফল্যের পাশাপাশি আক্ষেপও রয়েছে। তিনবার ফাইনালে উঠেও এখনো বিশ্বকাপ শিরোপা অধরা। রোনাল্ড কোমানের দল এবার সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামছে। আক্রমণভাগে মেমফিস ডিপাই থাকছেন মূল ভরসা। তার সঙ্গে কোডি গাকপো, ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, ডেনজেল ডামফ্রিস এবং দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা দলকে ভারসাম্য দিচ্ছেন।

অন্যদিকে, জাপান আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করতে প্রস্তুত। ২০২২ বিশ্বকাপে তারা জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে বড় চমক সৃষ্টি করেছিল। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই এবারও তারা শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামছে। জাপান তাদের শেষ দুই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই জয় পেয়েছে। যা তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে জাপানের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে ২৫টির বেশি ম্যাচ খেলেও তারা কখনো কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি। তবুও তাদের বর্তমান দলটি আক্রমণাত্মক ও সংগঠিত ফুটবলের জন্য পরিচিত। কোয়ালিফাইংয়ে তারা ৫১টি গোল করেছে। যা তাদের আক্রমণভাগের শক্তির প্রমাণ। তেকেফুসা কুবো, জুনিয়া ইতো এবং আয়াসে উএদা এই দলের প্রধান আক্রমণভাগের ভরসা।

হেড টু হেড ইতিহাসেও এগিয়ে নেদারল্যান্ডস। এখন পর্যন্ত তিনবার মুখোমুখি হয়ে তারা দুই ম্যাচে জয় পেয়েছে এবং এক ম্যাচ ড্র হয়েছে। বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র দেখা হয়েছিল ২০১০ সালে। যেখানে ওয়েসলি স্নাইডারের একমাত্র গোলে নেদারল্যান্ডস জয় নিশ্চিত করেছিল।

সবমিলিয়ে এটি একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নেদারল্যান্ডস অভিজ্ঞতা, গভীরতা ও ধারাবাহিকতার দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও জাপানের গতি, শৃঙ্খলা এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ম্যাচের ফল নির্ভর করবে মূলত মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতার ওপর।

দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ

নেদারল্যান্ডস : ভারব্রুগেন, ডামফ্রিস, ভ্যান ডাইক, আকে, ফান দে ভেন, ডি ইয়ং, রেইন্ডার্স, কোপমেইনার্স, গাকপো, ডিপাই, মালেন

জাপান : সুজুকি, সুগাওয়ারা, ইতাকুরা, টমিয়াসু, ইতো, এন্দো, কামাদা, তানাকা, কুবো, জুনিয়া ইতো, উএদা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *