ঝালকাঠির রাজাপুরে স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতনে চালে ব্যবহৃত কীটনাশক পান করে কুলসুম বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, কুলসুমকে পিটিয়ে হত্যা করার পর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে আত্মহত্যা বা কীটনাশক পানের ‘নাটক’ সাজানো হয়েছে।
গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের জগাইরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কুলসুম বেগম ওই এলাকার মো. আবুল কালাম তাজেল আকনের স্ত্রী। ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কুলসুম বেগমের সঙ্গে তার শাশুড়ি হোসনা ভানু এবং স্বামী তাজেলের বিরোধ চলছিল। শাশুড়ির প্ররোচনায় স্বামী আবুল কালাম প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন বলে স্থানীয়রা জানান।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে স্থানীয়রা জানান, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শাশুড়ির সঙ্গে কুলসুম বেগমের বাকবিতণ্ডা হয়। দুপুরে স্বামী বাড়িতে খেতে এলে শাশুড়ি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী তাজেল কুলসুমকে গালিগালাজ ও মারধর করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে সন্ধ্যার দিকে শাশুড়ির সঙ্গে পুনরায় ঝগড়া হলে গৃহবধূ ঘরে থাকা কীটনাশক পান করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে রাত ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের দাবি, কুলসুমকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে বিষপানের গল্প সাজানো হয়েছে। নিহতের স্বজনরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্বামী আবুল কালাম তাজেল আকন আত্মগোপনে রয়েছেন।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।