জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই একটি ফেরি ডুবে অন্তত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটার একদিন পর আজ বুধবার (১২ আগস্ট) সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এই মৃত্যুর নিশ্চিত খবর জানিয়েছে।
মঙ্গলবার বৈরি আবহাওয়ার মধ্যে সরকারি ফেরিটি ডুবে যাওয়ার পরপরই এক প্রত্যক্ষদর্শী বার্তা সংস্থা এএফপি-কে জানান, উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় পানিতে একাধিক মরদেহ ভেসে থাকতে দেখা গিয়েছিল।
জিম্বাবুয়ের সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট (সিপিইউ) জানিয়েছে, ফেরিটি যখন ডুবে যায় তখন এতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী, ৫ জন ক্রু এবং বেশ কয়েকজন শিশু তাতে ছিল।
দেশটির রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (রিডা) এই জলযানটি উত্তরাঞ্চলীয় কারিবা শহর এবং বেশ কয়েকটি দ্বীপ ও মাছ ধরার গ্রামের মধ্যে সাধারণ মানুষকে পারাপারের কাজে নিয়োজিত ছিল। ফেরিটির যাত্রী ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র ৯০ জন। সিপিইউ প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল ৭৭ জনকে জীবিত এবং ১৫টি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
পরে আজ বুধবার জিম্বাবুয়ে রিপাবলিক পুলিশ (জেডআরপি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তাদের সর্বশেষ তথ্যে জানায়, ‘জেডআরপি জনগণকে জানাচ্ছে যে, কারিবা রিডা’র নৌ দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে।’
জাম্বিয়া সীমান্তের কাছে এবং জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারে থেকে ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এই কারিবা হ্রদটি পৃথিবীর বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ। হ্রদে ঘটা নৌ-দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে এটিকে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
জিম্বাবুয়ের সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে এবং মরদেহগুলো বহনের জন্য দুটি শেষকৃত্য সংস্থাকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ম্যাক্সটন কানহেমা নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ফেরিটি সকালে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে রওনা হয় এবং সম্ভবত বিশাল ঢেউয়ের আঘাতে এর ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
মঙ্গলবার বিকেলে অকুস্থলে পৌঁছানো একটি ছোট নৌকায় থাকা কানহেমা বলেন, ‘আমরা যখন পানিতে ছিলাম, তখন বিপদসংকেত দেখতে পাই এবং কাছাকাছি থাকা অন্যান্য নৌকাগুলো দ্রুত সাহায্যের জন্য সাড়া দেয়।’ তিনি আরও জানান, উদ্ধার কাজে সাহায্যের জন্য হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ও সেনাবাহিনীর ডুবুরিদের পাশাপাশি বড় নৌকাও উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।
ম্যাক্সটন কানহেমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মানুষ চরম আতঙ্কে ছিল… পানিতে ভেসে ছিল অনেক মরদেহ, পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। যাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তাদের বাঁচানো গেছে।’
জিম্বাবুয়ের সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট জানিয়েছে, উদ্ধারকাজে গতি আনতে একটি বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দলকে এয়ারলিফটের মাধ্যমে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেওয়া হয়। সংস্থাটি আরও জানায়, উদ্ধার হওয়া ৭৭ জনকে হ্রদের মাঝখানে অবস্থিত ‘লং আইল্যান্ডে’ নিয়ে যাওয়া হয়েছে।