ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেছেন, বাজেট বা জনবল সংকটের অজুহাতে নাগরিক সেবা ব্যাহত করা যাবে না।
বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর লালবাগ মির্জা আবুতালিব শায়েস্তা খাঁন কমিউনিটি সেন্টারে ডিএসসিসির অঞ্চল-৩ ও অঞ্চল-৪ এর আওতাধীন এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে আব্দুস সালাম এ কথা বলেন।
নাগরিক সেবার অন্তর্ভুক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশক নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম গতিশীলকরণ এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
গণশুনানিতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আমরা প্রতিটি জোনের জনগণের অভিযোগ শুনছি এবং কিছু সমস্যার স্পটেই সমাধান দিচ্ছি। সিটি করপোরেশন জনগণের সেবায় নিয়োজিত। তাই জনগণের প্রতিটি অভাব-অভিযোগ শুনে সেগুলো সমাধান করার দায়িত্ব আমাদের। বর্জ্য অপসারণ, সড়ক ও এলাকাভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে— এখানে ‘বাজেট নেই বা লোক নেই’ এমন কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, জনগণকে বারবার প্রশ্নের মুখে না ফেলে আগেই কাজ সম্পন্ন করতে হবে। শহরের অচল বাতিগুলো দ্রুত সচল করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, যেখানে বিদ্যুতের পোল আছে, সেখানে অবশ্যই লাইট জ্বলতে হবে। পাশাপাশি তিনি এলাকাবাসীকে বাল্ব চুরি ও ভাঙচুর রোধে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
মশক নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে আব্দুস সালাম বলেন, লার্ভা ও ডিম ধ্বংস না করে শুধু উড়ন্ত মশা নিধন কার্যকর নয়। তাই উৎসস্থলেই মশার প্রজনন রোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। বুড়িগঙ্গা নদী দূষণ রোধে স্থানীয় জনগণের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধে ইতোমধ্যে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নাগরিক সার্টিফিকেট, জন্মনিবন্ধন ও ওয়ারিশ সনদ প্রাপ্তিতে কোনো ধরনের হয়রানি বরদাশত করা হবে না। কাগজপত্র সঠিক থাকলে দ্রুত সেবা প্রদান করতে হবে এবং কেউ বাধা সৃষ্টি করলে সরাসরি কর্তৃপক্ষকে জানাতে নাগরিকদের অনুরোধ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রশাসক ঘোষণা দেন, বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে ১৫ শতাংশ রিবেট (ছাড়) সুবিধা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। এ ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স ও সাইনবোর্ড বিধিমালা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট অভিযান জোরদার করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার নাগরিকদের সমস্যার দ্রুত ও সমন্বিত সমাধানের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণের অভিযোগের ভিত্তিতে কিছু তাৎক্ষণিক সমাধান হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি তাঁতীবাজার এলাকায় স্পিড ব্রেকার স্থাপন, আজিমপুর কবরস্থান সংলগ্ন সড়ক প্রশস্তকরণ এবং পুরান ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি সুদূরপ্রসারী মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
গণশুনানিতে অঞ্চল-৩ ও অঞ্চল-৪ এর এলাকার নাগরিক, রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মী এবং ডিএসসিসি’র সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে নাগরিকরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স ও জনস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত, অভিযোগ ও পরামর্শ তুলে ধরেন এবং কর্মকর্তারা উত্থাপিত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।