চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা , যুক্তরাষ্ট্রের দূতদের সঙ্গে বৈঠকে অস্বীকৃতি ইরানের

৩০ জুন তেহরানের ভ্যালিয়াসর স্কোয়ারে, ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির ছবি সম্বলিত একটি শোকসূচক বিলবোর্ডের পাশ দিয়ে মোটরচালকরা মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছেন। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানো মার্কিন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তারা কোনো সরাসরি বৈঠক করবে না। একই সঙ্গে তেহরান বলেছে, চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনার পূর্বে দুই সপ্তাহ আগের স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির শর্ত বাস্তবায়ন ও তার বিস্তারিত বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করতে হবে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩০ জুন) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মার্কিন পক্ষের সঙ্গে কোনো পর্যায়েই বৈঠকের সূচি নির্ধারণ করা হয়নি। খবর রয়টার্সের। 

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছান। হোয়াইট হাউস এ সফরকে ‘উচ্চপর্যায়ের আলোচনা’ হিসেবে উল্লেখ করলেও কাতার ও ইরান জানায়, মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি নয়, বরং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ হবে।

কাতার জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের কোনো মুখোমুখি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে না।

ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির বিভিন্ন শর্ত এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এসব বিষয় নিষ্পত্তির আগে পারমাণবিক কর্মসূচি বা দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির মতো জটিল ইস্যুতে আলোচনা শুরু করা সম্ভব নয়।

চুক্তির প্রাথমিক কাঠামো অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করবে। এর বিনিময়ে আর্থিক প্রণোদনা পাবে এবং ৬০ দিনের মধ্যে স্থায়ী শান্তি চুক্তির জন্য আলোচনা চালানোর কথা রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, অচলাবস্থা কাটাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন করে সামরিক হামলার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

তবে আপাতত ট্রাম্প কূটনীতিকে আরও কিছু সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আংশিকভাবে স্বাভাবিক হলেও নতুন বিরোধ তৈরি হয়েছে।

ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, হরমুজ প্রণালির সার্বভৌমত্ব ইরান ও ওমানের। এই জলপথে চলাচলের নিয়ম ইরানই নির্ধারণ করবে।

গালিবাফ আরও জানান, ৬০ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন সময় শেষ হলে আগামী আগস্টের মাঝামাঝি থেকে জাহাজ চলাচলের ওপর টোল আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আন্তর্জাতিক এই নৌপথে ইরানকে কোনো ধরনের টোল আদায় করতে দেওয়া হবে না।

ভ্যান্স বলেন, হরমুজ প্রণালি এমন জায়গায় পরিণত হবে না, যেখানে ইরান জাহাজ থেকে টোল আদায় করবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে সপ্তাহান্তে মার্কিন বাহিনীর হামলা এবং ইরানের পাল্টা জবাবের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে।

তবে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনসিটিএডি) সতর্ক করে বলেছে, জ্বালানি বাজারে চাপ কমলেও খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্বের দুর্বল অর্থনীতিগুলো এখনও ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক আলোচনা শান্তি চুক্তি ইরান .

sn/sks

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *