গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের গজিয়াপাড়া এলাকায় পেয়ারা পেরে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে গোবিন্দগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অভিযুক্ত মাহাদী হাসান জিহাদ (১৪) একই এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত জিহাদ পলাতক রয়েছেন।
থানা সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী পরিবার গজিয়াপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে। প্রতিবেশী হওয়ায় অভিযুক্তের পরিবারের সাথে তাদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। গত রোববার (১৯ জুলাই) সকালে শিশুটি তার দাদির সাথে ভাত খাওয়ার সময় অভিযুক্ত জিহাদ তাকে পেয়ারা পেরে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ডেকে নিয়ে যায়। অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর মূসা মন্ডলের বদ্ধ ঘর থেকে শিশুটি কান্না করতে করতে বের হয়ে আসে এবং দাদির কাছে সব ঘটনা প্রকাশ করে। পরে দাদি নাতনির পোশাকে রক্তের দাগ দেখতে পান।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া এবং স্থানীয় সালিশের নামে পাঁচদিন কালক্ষেপণ করে ভুক্তভোগী পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনের দৃষ্টিগোচর হয়। তিনি তাৎক্ষণিক পুলিশকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. ফরহাদ আলী বলেন, সকালে ধর্ষণের অভিযোগে শিশুটিকে নিয়ে আসা হয়েছিল। প্রাথমিক পরীক্ষায় আলামত পাওয়া না গেলেও ঘটনার পাঁচদিন পার হওয়ায় তা নষ্ট হয়ে থাকতে পারে। অধিকতর ও উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য শিশুটিকে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) রেফার করা হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং শিশুটিকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।