কোনো ফ্যাসিস্ট ও অপশক্তিকে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না: স্বরাষ্টমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি অস্থিরতা সৃষ্টি এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। তবে কোনো অপশক্তি, ফ্যাসিস্ট ও পতিত শক্তিকে অস্থিরতা সৃষ্টির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে দুর্গাপূজা উদযাপন নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, দেশের শত শত মানুষকে হত্যা করেছে, তাদের বাংলাদেশে কোনো অপতৎপরতা চালাতে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুনেছি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে  ফিরতে চান। তাকে ফেরত পাওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কয়েক দফা অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার।

সাজেকের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ে অনেকগুলো গ্রুপ আছে, তাদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব আছে। পর্যটন মৌসুম কেন্দ্র করে প্রতিবছর তারা পাহাড়ের কিছু জায়গা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা সঠিক রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে সব প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীও যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে এবং নেবে। রাজনৈতিক পর্যায়ে ওই এলাকার নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে আলোচনা চলছে, স্থানীয় এমপি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। পাহাড়ে শান্তি বজায় রাখতে সকল প্রচেষ্টা বজায় রাখবে সরকার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গোপালগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং তার সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগের কিছু ছেলেরা মিছিল দেওয়ার চেষ্টা করে। সেখানে টহলরত পুলিশের সংখ্যা কম ছিল। যার জন্য আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পরবর্তী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ ব্যাপারে রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিস্থাপন করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর এবার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে সম্প্রীতির সঙ্গে দুর্গাপূজা উদযাপন করেছেন। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনগণ ও সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, গত ১৫–১৭ বছরে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা হয়েছে। এবার আগাম প্রস্তুতি, প্রযুক্তি ও অ্যাপের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে নজরদারি করায় সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনা আগেই শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে। সরকারি হিসাবে, এবার দেশে সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *