কুমিল্লায় গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে আবাসিক গ্রাহকরা

কুমিল্লায় তীব্র গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। গত এক সপ্তাহ ধরে রাতে স্বল্প সময়ের জন্য গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলেও বুধবার (১২ আগস্ট) দিনভর অনেক এলাকায় গ্যাসের দেখা মেলেনি। এতে রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেউ খোলা জায়গায় ইট দিয়ে চুলা বানিয়ে রান্না করেছেন, আবার কেউ খাবারের জন্য ছুটেছেন হোটেলে। গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁয়ও।

নগরীর ঝাউতলা এলাকার গৃহিণী সুরাইয়া সুলতানা বলেন, গেল এক সপ্তাহ ধরে রাতে গ্যাস আসতো। রাত জেগে রান্নাবান্নার কাজ করতাম। আজ সারাদিন গ্যাস ছিল না। বাধ্য হয়ে বাসার পাশে খোলা জায়গায় ইট দিয়ে চুলা বানিয়ে রান্না করেছি। অথচ আমাদের কোনো নোটিশও করা হয়নি

ব্যাংকার ইফফাতুল চৌধুরী বলেন, ‘গ্যাস না থাকায় সকালে হোটেল থেকে পরোটা-সবজি এনে সবাই খেয়েছি। দুপুরে বাসায় ফিরতে পারিনি। সন্ধ্যার মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে মাটির চুলায় রান্না করতে হবে। দুপুরে হোটেলে দীর্ঘ লাইন থাকায় খাবার কিনে আনাও সম্ভব হয়নি।

গ্যাস সংকটের কারণে নগরীর খাবার হোটেলগুলোতেও বেড়েছে চাপ। ফৌজদারি এলাকার খাবার হোটেলের মালিক শফিকুল ইসলাম বলেন, বাসাবাড়িতে গ্যাস না থাকায় আজ গ্রাহক বেড়েছে। বিশেষ করে ভাত ও রান্না করা তরকারি বেশি বিক্রি হয়েছে।

এদিকে গ্যাস সংকটের বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় জাতীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে দেশের অন্যান্য এলাকার মতো বিজিডিসিএলের বিতরণ এলাকাতেও গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।

বিজিডিসিএলের আওতাধীন কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় এ সংকটের প্রভাব পড়েছে। গ্যাসের সাময়িক স্বল্পতার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় গ্রাহকদের সহযোগিতা কামনা করেছে কর্তৃপক্ষ।

গ্যাস সরবরাহ ও অভিযোগের বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের হটলাইন ১৬৫১৩ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, হঠাৎ করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন পরিবারে রান্নার দায়িত্বে থাকা মানুষজন। অনেকেই বিকল্প জ্বালানি দিয়ে রান্না করতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ ও বিড়ম্বনায় পড়ছেন। দীর্ঘস্থায়ী এ সংকট দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *