ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে নারীকে হত্যা, কথিত প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড

ঢাকার আশুলিয়া থানার জিরাবোতে অ্যাপারেলস লিমিটেড ফ্যাক্টরির কর্মী শাহিনা খাতুনকে ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় কথিত প্রেমিক মো. শরিফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ রোববার (২ আগস্ট) ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত জেলা জজ মো. মুনির হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। বিচারক রায়ে আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন।

রায়ের বিচারক আসামিকে সাজা পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শাহিনা খাতুনের সঙ্গে তার স্বামী আজিজের তালাক হয়। তিনি এরপর কাজের উদ্দেশ্যে ঢাকা জেলার আশুলিয়ার জিরাবোতে হাজী জিল্লুর রহমানের ভাড়া বাসায় থাকতে শুরু করেন। সে সময় অ্যাপারেলস লিমিটেডে ফ্যাক্টরির (ফাইভ-এফ) নামক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে অপারেটর পদে চাকরি শুরু করেন। আসামি মো. শরিফুল ইসলাম একই এলাকার ম্যাসকট ফ্যাশন নামক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে অপারেটর পদে চাকরি করতেন। চাকরি করার সুবাদে ম্যাসকট ফ্যাশনের সামনে ভুক্তভোগী শাহিনা আক্তারের সহিত আসামি মো. শরিফুল ইসলামের পরিচয় হয়।

নথি থেকে আরও জানা গেছে, আসামি মো. শরিফুল ইসলাম বিবাহিত ছিলেন। তার দুই সন্তান রয়েছে। তারপরেও ভুক্তভোগী শাহিনা আক্তার ও আসামি মো. শরিফুল ইসলাম পরস্পর বিবাহ বহির্ভূত অবৈধ সম্পর্কে জড়ান। তারা একত্রে প্রায় দুই মাস ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। একপর্যায়ে শাহিনা আক্তার আসামি শরিফুল ইসলামকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেয়। এতে আসামি শাহিনাকে ছেড়ে তার প্রথম স্ত্রীর নিকট চলে যেতে চান। সেসময় আসামি শরিফুলের সহিত ভুক্তভোগীর মনোমালিন্য ও কথা-কাটাকাটি এবং ঝগড়া-ঝাঁটি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১৯ মার্চ দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যে আসামি শরিফুলের সঙ্গে ভুক্তভোগী শাহিনা আক্তারের ঝগড়া-ঝাঁটি ও ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে আসামি শরিফুল ইসলাম ওড়না দিয়ে শাহিনার গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

এরপর আসামি শরিফুল ভুক্তভোগী শাহিনা আক্তারের মরদেহ সাদা বড় প্লাস্টিকের বস্তার মধ্যে ভরে ঘরের ভেতর রেখে দেয় এবং বাহির হয়ে ঘরে তালা দিয়ে আত্মগোপন চলে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থালের পাশের রুমের প্রতিবেশীরা প্রায় তিন দিন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর রুমে তালা এবং রুমের দরজায় রক্ত দেখে বাড়িওয়ালা ও পুলিশকে খবর দেয়। এরপর পুলিশ এসে ভুক্তভোগী শাহিনা আক্তারের রুমের তালা ভেঙে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি শাহিনা আক্তারের গলায় ওড়না পেঁচানো লাশ উদ্ধার করেন।

পরবর্তীতে নিহতের ভাই মো. রাহিন আশুলিয়া থানায় শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় মামলা করেন। মামলার পরে মোবাইল টেকনোলজির সাহায্যে আসামি শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর শরিফুল ইসলাম আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৩০ অক্টোবর ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে মামলাটি ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত জেলা জজ মো. মুনির হোসেনের আদালতে বদলি হয়। মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ বিচারক আসামি শরিফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *