বাইশ গজে বিরাট কোহলির আগ্রাসী রূপ নতুন কিছু নয়। তবে এবার ব্যাট হাতে পারফর্ম করে নয়, বরং মাঠ ও মাঠের বাইরের এক অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ দিয়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন ভারতীয় এই ব্যাটিং মহাতারকা।
আইপিএলের ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অস্ট্রেলিয়ান তারকা ট্রাভিস হেডের সঙ্গে একপ্রকার দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। মাঠের স্লেজিং বা কথা-কাটাকাটি ম্যাচ শেষে প্রথাগত করমর্দন (হ্যান্ডশেক) পর্ব পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেছেন কোহলি, যা নিয়ে ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
আইপিএলের হাইভোল্টেজ ম্যাচে গতকাল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ২৫৫ রানের পাহাড় গড়েছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। এত বিশাল রান তাড়া করতে নেমে ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই ট্রাভিস হেডের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ান বিরাট কোহলি।
হেডের একটি মন্তব্যে ক্ষিপ্ত হয়ে কোহলি মাঠের মাঝেই পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, ‘ঠিক আছে, (বোলিংয়ে) এসে কয়েকটা বল করো।’
কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস, এর কয়েক বল পরেই আউট হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় কোহলিকে। সুযোগ বুঝে কোহলিকে পাল্টা খোঁচা দিতে ছাড়েননি ট্রাভিস হেডও। তিনি বলেন, ‘আমি বোলিংয়ে আসার আগেই তো তুমি আউট হয়ে গেলে!’
পরবর্তীতে ম্যাচের ১৯তম ওভারে একটি ওভার বোলিংও করেন হেড। মাত্র ৭ রান দিয়ে তিনি তুলে নেন বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক রজত পাতিদারের উইকেট। অবশ্য ততক্ষণে বেঙ্গালুরুর হার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। শেষ ২ ওভারে দলটির প্রয়োজন ছিল ৭৯ রান। শেষ পর্যন্ত ৫৫ রানের বড় ব্যবধানে ম্যাচটি হেরে যায় কোহলির বেঙ্গালুরু।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সাধারণত দুই দলের ক্রিকেটাররা হাত মিলিয়ে মাঠ ছাড়েন। কিন্তু কোহলি মাঠের সেই উত্তাপ ও রাগ ধরে রাখলেন ড্রেসিংরুমে ফেরার আগপর্যন্ত। ম্যাচ শেষে যখন দুই দলের খেলোয়াড়রা একে অপরের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করছিলেন, তখন ট্রাভিস হেড কোহলির দিকে হাত বাড়িয়ে দেন। কিন্তু কোহলি হেডকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে সোজা সামনে এগিয়ে যান।
তবে হেডের ওপর রাগ থাকলেও বাকি অজি ক্রিকেটার, বিশেষ করে হায়দরাবাদ অধিনায়ক প্যাট কামিন্সসহ অন্য সবার সঙ্গেই স্বাভাবিকভাবে হাত মিলিয়েছেন কোহলি।
বিরাট কোহলির মতো বিশ্বমানের একজন ক্রিকেটারের কাছ থেকে এমন আচরণ মোটেও আশা করেননি ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান। বিষয়টি নিয়ে কোহলির কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি।
ইরফান বলেন, ‘ম্যাচ শেষের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি খুব সহজেই এড়ানো যেত। মাঠে আগ্রাসন বা স্লেজিং থাকতেই পারে, সেটা খেলারই একটা অংশ। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর প্রতিপক্ষের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানানো কোহলির মতো এত বড় মাপের খেলোয়াড়ের কাছ থেকে মোটেও সঠিক আচরণ ছিল না।’