ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক শেষ হওয়া এখনও অনেক দূরে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরানের ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা পরবর্তী মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। খবর এএফপির।

আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি দেন।

পিক্যাক্স মাউন্টেন হলো ইরানের নাতাঞ্জের কাছে মাটির গভীরে অবস্থিত একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও সুড়ঙ্গঘেরা পারমাণবিক স্থাপনা। পশ্চিমা গোয়েন্দাদের সন্দেহ, ইরান এখানে একটি অঘোষিত ও গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করছে।

ইরান এই স্থাপনায় পারমাণবিক সেন্ট্রিফিউজ স্থানান্তর করেছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি তারা হয়তো তা করেছে, তবে আমাদের কাছে এর কোনো আনুষ্ঠানিক রেকর্ড নেই। সাধারণত আমি আগে থেকে লক্ষ্যবস্তুর ঘোষণা দিই না। যদি ভাবতাম যে তারা এ বিষয়ে কিছু করতে পারবে, তবে আমি কখনই এটি বলতাম না। কিন্তু আমরা খুব শিগগিরই ওই এলাকায় খুব জোরালোভাবে আঘাত হানতে যাচ্ছি।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেখা করার জন্য অত্যন্ত ‘মরিয়া’ হয়ে উঠেছে, কিন্তু তেহরান যতক্ষণ না একটি অর্থপূর্ণ পরমাণু আলোচনার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, ততক্ষণ ওয়াশিংটনের তাদের সঙ্গে বসার কোনো আগ্রহ নেই। তিনি অনুমান করে বলেন, চলমান সংঘাতে বর্তমান ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠে ইরানের আগের অবস্থায় ফিরতে ২০ বছরেরও বেশি সময় লাগবে।

ট্রাম্প বলেন, আমরা যদি এখনই চলে যাই, তাহলে ইরানের পুনর্গঠন করতে ২০ থেকে ২৫ বছর সময় লাগবে। সুতরাং আমাদের সম্পর্ক মোটেই শেষ হয়ে যায়নি… আমরা এখনই চলে যাচ্ছি না।

উল্লেখ্য, দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ও হামলা-পাল্টা হামলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *