বিক্ষোভে দমনপীড়ন, মোদির পদত্যাগ দাবি রাহুল গান্ধীর

শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্মম দমনপীড়নের জেরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবি করেছেন দেশটির প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।

আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে অন্যান্য সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই দাবি জানান।

রাহুল গান্ধী বলেন, ভারতের যুবকদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার অপরাধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ করা উচিত। সরকার এই সংকটের কোনো দায় নিতে চায় না, এমনকি সংসদেও এ নিয়ে কোনো আলোচনা বা বিতর্ক করতে রাজী নয়। বিরোধী দলগুলোর প্রতিবাদের মুখে আজ এ নিয়ে আলোচনার দাবি ওঠার পর সংসদ অধিবেশন মুলতবি করা হয়।

গতকাল সোমবার নয়াদিল্লির কেন্দ্রস্থলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষের পর আজ মঙ্গলবারও দিল্লির জন্তর মন্তর বিক্ষোভস্থলে শত শত আন্দোলনকারী অবস্থান নিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দাবিতে তারা অনড় রয়েছেন।

গত মে মাসে যাত্রা শুরুর পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র অনলাইন আহ্বানে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। ২০২৪ সালে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসা হিন্দু-জাতীয়তাবাদী নেতা নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য এই আন্দোলনকে অন্যতম বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, আমরা থামব না। শিক্ষামন্ত্রী প্রধানকে বরখাস্ত করতেই হবে। অন্যদিকে, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আন্দোলনকারীদের মনোবল শক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ওরা আমাদের মনোবল ভেঙে দিতে চায়। ওদেরকে আপনাদের মুখ বন্ধ করতে দেবেন না।

গতকাল সোমবার সিজেপির সংসদ অভিমুখে মিছিলে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে দিল্লির সবচেয়ে বড় রাস্তার সমাবেশটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে, জবাবে বিক্ষোভকারীরাও পাথর ছোড়ে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এই সংঘর্ষে অন্তত ১১৮ জন পুলিশ সদস্য এবং প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।

তবে আন্দোলনের আয়োজকদের দাবি, আহত বিক্ষোভকারীর সংখ্যা শত শত। সিজেপি মুখপাত্র রাঙ্কা এএফপি-কে বলেন, ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি একটি লজ্জাজনক দিন যে, সৎ ছাত্ররা একটি যৌক্তিক দাবি নিয়ে এসে দিল্লি পুলিশের হাতে নির্মমভাবে মার খেয়েছেন। তিনি আরও জানান, সরকারের প্রবীণ মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করলেও সরকার এখনও তাদের দাবির কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব দেয়নি।

২৫ বছর বয়সী আইনের ছাত্র চন্দ্র প্রতাপ শিশ্বী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশকে এভাবে মানুষকে মারতে দেখে আমার রক্ত গরম হয়ে গিয়েছিল। আমরা এখন আরও নির্ভীক হয়ে উঠেছি, পিছু হটব না।

ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যেও লক্ষ লক্ষ তরুণের ভালো বেতনের চাকরি না পাওয়া এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার ধারাবাহিক কেলেঙ্কারি এই অসন্তোষকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। গত মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে বাতিল হওয়া একটি পরীক্ষায় প্রায় ২২ লাখ মেডিকেল শিক্ষার্থী কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পুনঃপরীক্ষায় বসেন। এর আগে আরও প্রায় ২০ লাখ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অনলাইন খাতা মূল্যায়ন সংক্রান্ত আরেকটি বড় কেলেঙ্কারি ঘটেছিল।

তবে সরকারের পক্ষ সমর্থন করে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু মঙ্গলবার বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি জানান, মঙ্গলবার মিত্রদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি ভবিষ্যতে এই ধরনের অনিয়ম রোধে একটি ‘ত্রুটিহীন ব্যবস্থা’ চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। অবশ্য চলমান এই বিক্ষোভ নিয়ে মোদি এখনও সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *