ইরান জাতিসংঘ পারমাণবিক পরিদর্শকদের আবারও দেশে প্রবেশের অনুমতি দেবে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের এমন ঘোষণার পর আজ সোমবার (২২ জুন) যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
গত সপ্তাহে প্রায় ৪০ দিনের লড়াই এবং তার পরে একটি নড়বড়ে ও প্রায়শই লঙ্ঘিত যুদ্ধবিরতির পর, তেহরান এবং ওয়াশিংটন আলোচনার ভিত্তি তৈরি করতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদী সমঝোতা নিশ্চিত করার জন্য সুইজারল্যান্ডে ৬০ দিনের কারিগরি আলোচনা শুরু করার জন্য শর্তাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের বিলাসবহুল বুর্গেনস্টক রিসোর্টে সাংবাদিকদের ভ্যান্স বলেন, ‘একটি সফল চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আমরা খুব ভালো ভিত্তি স্থাপন করেছি। চূড়ান্ত চুক্তিটি হলো একটি বাড়ি, কিন্তু আমরা এখনো বাড়িটি তৈরি করিনি, তবে মার্কিন জনগণের জন্য একটি ভালো অবস্থানে পৌঁছানোর জন্য আমরা একটি সফল ভিত্তি স্থাপন করেছি।’
এদিকে, মার্কিন ট্রেজারি (অর্থ মন্ত্রণালয়) জানিয়েছে, তারা সাময়িকভাবে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে যাতে ইরান আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদন, বিক্রি এবং সরবরাহ করতে পারে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের কারণ হিসেবে চলমান আলোচনায় হরমুজ প্রণালিতে ‘মুক্ত ও উন্মুক্ত যাতায়াতের’ প্রতি তেহরানের প্রতিশ্রুতি এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের তাদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
আলোচকদের লক্ষ্য হলো কয়েক দশক ধরে মার্কিন-ইরান সম্পর্ককে জর্জরিত করা কিছু সবচেয়ে জটিল সমস্যার সমাধান করা, যার মধ্যে রয়েছে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আজ সোমবার বলেছেন, পারমাণবিক বিষয়ে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছে, তবে বিস্তারিত কোনো আলোচনা হয়নি এবং পারমাণবিক আলোচনা এখনো শুরু হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির অংশ হিসেবে, তেহরান ওয়াশিংটনের কাছ থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই পেতে যাচ্ছে, পাশাপাশি তাদের অবরুদ্ধ সম্পদও অবমুক্ত করা হবে।
জেডি ভ্যান্স অবশ্য জোর দিয়ে বলেছেন, সম্পদ এখনও অবমুক্ত করা হয়নি এবং যদি তা করাও হয়, তবে তা সয়াবিনের মতো মার্কিন পণ্য কেনার জন্য ব্যবহার করা হবে এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন করবে না। তিনি এটিকে একটি ‘ক্ল্যাসিক ট্রাম্প চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘যদি কখনো ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা হয়, তবে তা মার্কিন কৃষকদের আরও ধনী করতে এবং ইরানি জনগণকে খাদ্য সরবরাহে ব্যবহার করা হবে।’
এর কিছুক্ষণ পরেই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানায় যে তারা ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানি তেল বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে।