ইরান যুদ্ধে তেলের উৎপাদন কমেছে ৫০ কোটি ব্যারেল

বিশ্লেষক এবং রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উৎপাদন না হওয়ায় বিশ্ব ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের অপরিশোধিত তেল হারিয়েছে। এই সংকটের রেশ আগামী মাস, এমনকি বছরজুড়ে অনুভূত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষে সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববাজার থেকে ৫০ কোটিরও বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট সরবরাহ কমে গেছে। যা আধুনিক ইতিহাসে জ্বালানি সরবরাহে সবচেয়ে বড় বিঘ্ন।

রয়টার্সের অনুমান অনুযায়ী, এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক মাসের তেলের চাহিদা, অথবা সমগ্র ইউরোপের জন্য এক মাসেরও বেশি সময়ের তেলের সমান। ২০২১ অর্থবছর থেকে বার্ষিক প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে, এটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রায় ছয় বছরের জ্বালানি খরচের সমান।

মার্চ মাসে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো দৈনিক প্রায় ৮০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন হারিয়েছে। যা বিশ্বের দুটি বৃহত্তম তেল কোম্পানি এক্সন মবিল এবং শেভরনের সম্মিলিত উৎপাদনের প্রায় সমান।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন এবং ওমান থেকে জেট ফুয়েল রপ্তানি ফেব্রুয়ারির প্রায় ১ কোটি ৯৬ লক্ষ ব্যারেল থেকে কমে মার্চ ও এপ্রিল মাসে এখন পর্যন্ত সম্মিলিতভাবে মাত্র ৪১ লক্ষ ব্যারেলে নেমে এসেছে।

সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি গড়ে প্রায় ১০০ ডলার থাকায়, এই ঘাটতির ফলে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কেপলারের সিনিয়র অপরিশোধিত তেল বিশ্লেষক ইয়োহানেস রাউবল।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী স্থলভাগের অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ব্যারেল কমেছে। মার্চের শেষ থেকে, উৎপাদন ঘাটতি দৈনিক প্রায় ১২ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে।

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ২৪ ঘণ্টা না হতেই আবারও বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে লেবাননের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদকালীন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান। তবে যেসকল বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করবে তাদের অবশ্যই আইআরজিসির অনুমতি নিতে হবে বলেও জানিয়েছিল দেশটি।

আল জাজিরা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ঘিরে অবরোধ বহাল রাখায় আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।

সংঘাত শুরু হওয়ার আগে, প্রতিদিন প্রায় ১৩৮টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করত। ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় দৈনিক প্রায় ১ থেকে ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল বা বৈশ্বিক সরবরাহের ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *