ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোর ৫টার কিছু আগে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১৫ কিলোমিটার। এর পরপরই বেশ কয়েকটি আফটারশক অনুভূত হয়। খবর বিবিসির।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে শত শত ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে মাঙ্গারাই, যেখানে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। পূর্ব মাঙ্গারাইয়ে ১৭ জন, সিক্কায় তিনজন এবং এনগাদা, এনদে ও পশ্চিম মাঙ্গারাইয়ে অন্তত একজন করে নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া অন্তত দুজন গুরুতর এবং ১১ জন সামান্য আহত হয়েছেন।
ফ্লোরেসের সবচেয়ে বড় শহর মাউমেরে বন্দরের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, টার্মিনাল ভবনের বড় অংশ ভেঙে যাত্রীদের ওপর পড়ছে। একটি জাহাজের গ্যাংওয়ে ভেঙে পড়লে কয়েকজন যাত্রী সমুদ্রে পড়ে যান।
পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা জানিয়েছেন, ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া অনেকের ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। প্রায় ২ হাজার মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যান। তবে উল্লেখযোগ্য সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি না হওয়ায় প্রায় তিন ঘণ্টা পর সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
ভূমিধসের কারণে কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র পেতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ পাঠানো হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৫০০ প্যাকেজ ঘাঁটিতে পৌঁছেছে। রুটেং শহরে ভূমিকম্পে আহতদের চিকিৎসায় হাসপাতালের বাইরে অস্থায়ী মেডিকেল টেন্টও স্থাপন করা হয়েছে।
এদিকে, ইন্দোনেশিয়ার অন্য প্রান্তে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে।
ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটি তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলের অংশ।