আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলে ৪০ হাজার গাছ রোপণের অঙ্গীকার

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা যখন বিশ্বজুড়ে তুঙ্গে। তখন নোয়াখালীর সুবর্ণচরে প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসাকে পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকারে রূপ দিয়ে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্থানীয় আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা। তাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের নাম ‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস ফর নেচার’।

শনিবার (২০ জুন) গ্রিন ফিউচার স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ১০ হাজার গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনের লক্ষ্য ছিল সবুজায়নের পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাখাওয়াত উল্লাহ এবং একাডেমিক ডিরেক্টর মো. নুর নবী অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পরে ২০০ জন আর্জেন্টিনা সমর্থকের মাঝে ফলদ ও ঔষধি প্রজাতির মোট ১০টি করে চারা বিতরণ করা হয়। যা স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করে।

চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, তারা গত ৮ বছর ধরে নিয়মিত বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। জন্ম, মৃত্যু কিংবা যেকোনো সামাজিক ও পারিবারিক আয়োজনকেও তারা সবুজায়নের সঙ্গে যুক্ত করেন। তার ভাষায়, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত তাদের অঞ্চলের বাস্তব জীবনের কঠিন সত্য। যার কারণে তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপের এই উৎসবকে কাজে লাগিয়ে তারা বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জন্য শুভকামনা জানিয়ে তারা ১০ হাজার চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে দলটি চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় তারা ৩৬ হাজার চারা রোপণ সম্পন্ন করেন বলেও জানান তিনি।

এদিনের কর্মসূচিতে প্রায় ৫০ প্রজাতির এক হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের কার্যক্রম ক্রীড়ার বাইরে গিয়ে সামাজিক ও পারিবারিক বিভিন্ন আয়োজনেও সবুজায়নের ছোঁয়া দিতে চায়। এজন্য শুষ্ক মৌসুমে আগাম পরিকল্পনা করে তালিকা তৈরি করা হয় এবং বর্ষাকালে তা বাস্তবায়ন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শাখাওয়াত উল্লাহ ঘোষণা দেন, এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা যদি শিরোপা জয় করে। তবে তাদের সংগঠনের উদ্যোগে সারাদেশে আরও ৪০ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হবে। তাদের মতে, ফুটবলের এই উচ্ছ্বাসকে শুধু খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবেশ সচেতনতার আন্দোলনে রূপ দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *